আগাম নির্বাচনের হুমকি থেকে বাঁচলেন নেতানিয়াহু

 

সম্ভাব্য বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার। বর্তমান জোট সরকারের অন্যতম একজন মন্ত্রী পদত্যাগ ও সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর এই সংকট শুরু হয়েছিল। তবে সোমবার ওই মন্ত্রী আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনি জাতিমুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাসের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদোর লেইবারম্যান। এমনকি জোট সরকার থেকে নিজের ‘ইয়েসরায়েল বেইতেনু পার্টি’র সমর্থনও প্রত্যাহার করে নেন তিনি। এতে করে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে মাত্র একটি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকে নেতানিয়াহুর সরকারের।

লেইবারম্যান পদত্যাগ করার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের কাছে রাখেন নেতানিয়াহু। তবে জিউস হোম পার্টির নেতা ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট হুমকি দেন, তাকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী না করা হলে তিনি ও তার দল সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবেন। বেনেটের দল ক্ষমতাসীন জোটের তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল। তাদের সমর্থন না থাকলে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বৈধতাও হারাতো নেতানিয়াহুর সরকার। সেক্ষেত্রে আগাম নির্বাচনই হতো একমাত্র উপায়।

ঘটনার পর থেকে সরকার টিকিয়ে রাখতে মন্ত্রীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেন নেতানিয়াহু। সর্বশেষ রবিবার তিনি এক ভাষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে এমন সিদ্ধান্তে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেওয়া হবে। এরপর সোমবার বেনেট তার সমর্থন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রধানমমন্ত্রী যতদিন পর্যন্ত ইসরায়েলের গভীর নিরাপত্তা সংকট নিয়ে কাজ করবেন, ততদিন পর্যন্ত তিনি ও বিচার বিভাগীয়মন্ত্রী আয়েলেট শাকেড পদত্যাগ করবেন না।

বেনেট সাংবাদিকদের কাছে আরও বলেন, ‘আমি প্রধামন্ত্রীর গত রাতের (রবিবার) বক্তব্য বিশ্বাস করতে চাই। যদি তিনি তার উদ্দেশ্যের বিষয়ে আন্তরিক থাকেন, আমি এখানে তাকে বলতে চাই, আমরা আমাদের সব রাজনৈতিক দাবি দাওয়া প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। এছাড়া ইসরায়েলকে জয়ী করার বিশাল লক্ষ্যে আমরা আপনাকে সাহায্য করবো।’