ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দির স্থাপনের দাবিতে জড়ো হতে শুরু করেছে কট্টরপন্থী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। রবিবার সেখানে দুই লাখ হিন্দু জড়ো হবে বলে আশা আশা করছে ক্ষমতাসীন বিজেপি ঘনিষ্ঠ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এছাড়া কাছের আরেকটি স্থানে জমায়েত অনুষ্ঠিত হবে শিব সেনার আয়োজনে। আর এসব আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কায় রয়েছে আশেপাশের অঞ্চলের সংখ্যালঘু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। উত্তর প্রদেশের পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অযোধ্যায় নয়শোরও বেশি পুলিশের পাশাপাশি কমান্ডোসহ বিপুল সংখ্যক প্যারামিলিটারি মোতায়েন করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদ জেলায় বিতর্কিত ওই ধর্মীয় স্থাপনার অবস্থান৷ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাংশের দাবি, ১৫২৮ খ্রীষ্টাব্দে যেখানে বাবরি মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছিল সেই জায়গাটি ছিল দেবতা রামের জন্মভূমি, তা ভেঙে মসজিদ বানানো হয়৷ ১৯৯২ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন থাকার সময়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বাবরি মসজিদ৷ এনিয়ে দাঙ্গায় প্রাণ হারায় ২ হাজার মানুষ৷ এনিয়ে বিরোধ গড়ায় আদালতে। এলাহাবাদ হাই কোর্টে একবার রায় ঘোষণার পরেও তার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। ওই রায়ে বিতর্কিত জমিকে বিবদমান তিন পক্ষের মধ্যে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। তখন অযোধ্যার বিতর্কিত জমির মামলা চলে যায় শীর্ষ আদালতে। আগামী বছর ওই মামলায় চূড়ান্ত রায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগেই সেখানে রাম মন্দির তৈরিতে চাপ জোরালো করতে চাইছে ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দুরা।
রবিবারের আয়োজন ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা প্রসঙ্গে উত্তর প্রদেশের পুলিশের মুখপাত্র বিবেক ত্রিপাঠি বলেন, সিসিটিভি ও ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে আমরা পুরো শহর পর্যবেক্ষণ করছি।
আগামী ২০১৯ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ভারতের সাধারণ নির্বাচন। এ নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও এর সমর্থিত হিন্দু গ্রুপগুলো বিরোধপূর্ণ জমিতে রাম মন্দির নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি করছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র শরদ শর্মা বলেন, ওই মসজিদ হিন্দুদের জন্য অসম্মানের আর এটা লজ্জার যে আমরা হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র এই স্থানে একটি মন্দির স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছি। তিনি বলেন, হিন্দুরা অধৈর্য্য হয়ে উঠেছে আর দেবতা রামের নামে এখানে মন্দির নির্মাণ শুরুর সময় হয়ে গেছে।
অযোধ্যা থেকে নির্বাচিত বিজেপির কাউন্সিল সদস্য বাবলু খান বলেন, রবিবার জড়ো হওয়া হিন্দু গ্রুপগুলো মন্দির নির্মাণ শুরু করতে সরকারের কাছে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর দাবি করবেন।
হিন্দু ও মুসলমান দুই গ্রুপই ভারতের শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছে। তবে চূড়ান্ত রায়ের আগে আরও সময় চেয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শারদ শর্মা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই বিলম্ব ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়কে হতাশ করে তুলেছে আর তারা একটি রায়ের জন্য অনন্তকাল অপেক্ষা করবে না।
তবে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতাদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ওই স্থানে সুপ্রিম কোর্টকে পাশ কাটিয়ে রাম মন্দির স্থাপনে সরকারের নির্বাহী আদেশ চেয়েছে।
হিন্দু মুসলিম দুই গ্রুপের উত্তেজনার কারণে অযোধ্যাকে এখন ছোটখাট সেনানিবাসের শহর বলে মনে হয়। সুপ্রিম কোর্টই বর্তমানে শহরটির নিয়ন্ত্রণ করছে।