ধনী বিনিয়োগকারী, সিনিয়র বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ মেয়াদি ভিসা দেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় ভেঙে পড়া অর্থনীতি চাঙা করতে এর অর্থনীতি ও আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এই ভিসা দেওয়ার চিন্তা করছে আরব বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশটি। গত মে মাসে ভিসা নীতি শিথিলের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হলেও ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে শনিবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে নতুন ভিসা নীতি।
এখন পর্যন্ত সাধারণত মাত্র কয়েক বছরের জন্য বিদেশিদের ভিসা দেয় আমিরাত। তবে ওই ভিসার শর্ত অনুযায়ী মূল ভিসাধারী ব্যক্তির পরিবারের একজনকে চাকুরিতে নিয়োজিত থাকতে হয়। গত মে মাসে এই নিয়ম শিথিলের পরিকল্পনার কথা জানায় সরকার। শনিবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ভিসা নীতি অনুযায়ী আমিরাতে পাঁচ বছর মেয়াদী বসবাসের অনুমতি পেতে হলে সেখানে কমপক্ষে ৫০ লাখ দিরহাম মূল্যের আবাসন সম্পত্তি থাকতে হবে। তবে এই মালিকানা ঋণের ওপর নির্ভর করে হলে তা ওই ভিসার আওতায় আসবে না বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউিএএম।
এছাড়া দশ বছর মেয়াদী নবায়নযোগ্য ভিসা পেতে হলে আমিরাতে কমপক্ষে এক কোটি দিরহাম মূল্যের বিনিয়োগ থাকতে হবে বিদেশিদের। তবে এক্ষেত্রে মোট সম্পত্তির ৬০ শতাংশ আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট নয় এমন সম্পদ থাকতে পারবে। বিনিয়োগকারীরা তাদের দাম্পত্যসঙ্গী ও সন্তানদের আমিরাতে নিয়ে যেতে পারবে।
এছাড়া উদ্যোক্তাদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি ভিসা ও শীর্ষ যোগ্যতা সম্পন্ন বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য দশ বছর মেয়াদী ভিসার জন্যও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। আর অসামান্য মেধার অধিকারী শিক্ষার্থীরা আমিরাতে পাঁচ বছর অবস্থান করতে পারবেন। সম্প্রতি গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে এক ব্রিটিশ শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড দিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কূটনীতিক টানাপোড়েনে রয়েছে আমিরাত।
নতুন ভিসা নিয়ম ঘোষণার পর আরব আমিরাতের আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন বিনিয়োগ বা চাকরির প্রবণতায় এই নিয়ম সম্ভবত বড় কোনও পরিবর্তন আনার জন্য যথেষ্ট নয়।
দেশটির অর্থনীতির কোনও কোনও অংশ হোয়াইট কলার পেশাজীবীদের ওপর নির্ভর করে। এসব পেশাজীবীরা আমিরাতে বাড়ি কিনতে পারে। তবে একে দেশটিতে আটকা পড়া হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।
দুবাইয়ের লাইটহাউস রিসার্চ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান গবেষক জেন পল পিগাট বলেন নতুন ভিসা নিয়ম সঠিক পথেই এগুচ্ছে। ‘তবে স্থানীয় চাহিদা ও আবাসন খাতের মতো সেক্টরে বড় প্রভাব দেখতে হলে এই নীতিতে এমন পরিবর্তন আনতে হবে যাতে একটি বড় সংখ্যক বসবাসকারী যোগ্য হয়ে ওঠে’, বলেন তিনি। এছাড়া এই ভিসায় আমিরাতের নাগিরকত্ব পাওয়ার পথনির্দেশ নেই। এটা দেশটিতে একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। ধারণা করা হয় আমিরাতের ৯৪ লাখ অধিবাসীর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই বিদেশি।