আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের পর এবার মিসরে গেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সোমবার (২৬ নভেম্বর) কায়রো বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সেসময় সৌদি যুবরাজকে অভ্যর্থনা জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) থেকে আঞ্চলিক সফর শুরু করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান তিনি। সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সংকট শুরু হওয়ার পর সরকারিভাবে এটিই যুবরাজের প্রথম বিদেশ সফর। আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে রবিবার (২৫ নভেম্বর) আমিরাত থেকে বাহরাইনে যান বিন সালমান। বাহরাইনের বাদশাহ হামাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এর একদিন পর মিসর সফরে গেছেন তিনি। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মোহাম্মদ বিন সালমানের সফর সঙ্গী হিসেবে উচ্চ পর্যায়ের সৌদি কর্মকর্তারা রয়েছেন।
২০১৩ সালে সিসি মিসরের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে দেশটির সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। মিসরের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেনাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারে সৌদি যুবরাজ ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আলোচনা করবেন। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়েও কথা বলবেন তারা।
সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় সন্দেহের তীর উঠেছে সৌদি যুবরাজের দিকেও। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আছেন তিনি। এর মধ্যেই আঞ্চলিক সফর শুরু করেছেন সৌদি যুবরাজ বিন সালমান। সম্প্রতি সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত রাজ দরবারের বিবৃতিতে বলা হয়,সৌদি যুবরাজ তার বাবা বাদশাহ সালমানের অনুরোধে কয়েকটি ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ আরব দেশ সফর করবেন। তবে তার সফরের তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিউনিসের প্রেসিডেন্সিয়াল সূত্রকে উদ্ধৃত করে এএফপি জানিয়েছে,মঙ্গলবার তিউনিসিয়ায় যাবেন সৌদি যুবরাজ। আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিতব্য জি টুয়েন্টি সম্মেলনেও তার যোগ দেওয়ার কথা।
উল্লেখ্য, ৫৯ বছর বয়সী খাশোগি একসময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। গ্রেফতার এড়াতে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাচনে চলে যান খাশোগি। দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন খাশোগি। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সৌদি আরব জানায়,ইস্তানবুলের কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে খুন হন তিনি। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান খাশোগি হত্যার ঘটনায় সরাসরি সৌদি যুবরাজকে দায়ী না করলেও তিনি দাবি করেছেন,সৌদি আরবের ‘শীর্ষ পর্যায়’ থেকে হত্যার নির্দেশ এসেছে।