সৌদি যুবরাজের সফর নিয়ে আলজেরিয়ায় ক্ষোভ

অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আলজেরিয়া সফরে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তার সফরের বিরোধিতা করেছে উত্তর আফ্রিকার এ দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো। তাছাড়া শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও ইসলামি চিন্তাবিদসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ১৭ জন ব্যক্তি সৌদি যুবরাজের সফরের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

রিববার রাতে সৌদি যুবরাজকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী
আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে গত মাস থেকে বিভিন্ন আরব দেশ ভ্রমণ করছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ২২ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্য দিয়ে সফর শুরু করেন তিনি। সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সংকট শুরু হওয়ার পর সরকারিভাবে এটিই যুবরাজের প্রথম বিদেশ সফর। এরইমধ্যে আরব আমিরাত, বাহরাইন, মিসর, তিউনিসিয়া সফর করেছেন তিনি। মাঝে আর্জেন্টিনায় জি টুয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর মৌরিতানিয়ায় যান মোহাম্মদ বিন সালমান। রবিবার (২ ডিসেম্বর) মৌরিতানিয়া থেকে সৌদি যুবরাজ আলজেরিয়ায় পৌঁছান।

সৌদি যুবরাজের আলজেরিয়া সফরের বিরোধিতা করেছেন দেশটির শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও ইসলামি চিন্তাবিদদের একটি অংশ। ১৭ জন ব্যক্তি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সাংবাদিক জামাল খাশোগির বিরুদ্ধে ভয়াবহ এ অপরাধ সংঘটনের জন্য তিনিই (সৌদি যুবরাজ) যে নির্দেশ দিয়েছেন সে ব্যাপারে গোটা বিশ্ব নিশ্চিত।’

সৌদি যুবরাজের সফরের বিরোধিতা করেছে আলজেরিয়ার রাজনৈতিক দলগুলো। এর মধ্যে রয়েছে, বিরোধী দল মুভমেন্ট ফর দ্য সোসাইটি অব পিস। তাদের অভিযোগ, খাশোগিসহ ইয়েমেনে বিপুল সংখ্যক শিশু ও বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য সৌদি যুবরাজ দায়ী।

ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান লুইসা হানুন সৌদি যুবরাজের আলজেরিয়া সফরকে ‘উসকানিমূলক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মূলত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের উপর ভিত্তি করেই আলজেরিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দেশটিতে সৌদি যুবরাজের দুইদিনের সফরে এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা। একইসঙ্গে সৌদি আরব ও এর চির বৈরি দেশ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা গুটিকয়েক আরব দেশের একটি আলজেরিয়া। কাতারের সঙ্গেও আলজেরিয়ার সম্পর্ক বেশ দৃঢ়। ২০১৭ সালে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব ও আরও তিনটি দেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। যদিও সে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কাতার।

তুরস্কের সঙ্গেও আলজেরিয়ার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে।

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় সন্দেহের তীর উঠেছে সৌদি যুবরাজের দিকেও। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আছেন তিনি। ৫৯ বছর বয়সী খাশোগি একসময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। গ্রেফতার এড়াতে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান খাশোগি। দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন খাশোগি। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সৌদি আরব জানায়,ইস্তানবুলের কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে খুন হন তিনি। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান খাশোগি হত্যার ঘটনায় সরাসরি সৌদি যুবরাজকে দায়ী না করলেও তিনি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের ‘শীর্ষ পর্যায়’ থেকে হত্যার নির্দেশ এসেছে।