ইয়েমেনের সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে শান্তি আলোচনাকে সামনে রেখে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা থেকে আহত ৫০ হুথি যোদ্ধাকে সরিয়ে নেবে জাতিসংঘ। সোমবার (৩ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের বিমানে করে তাদেরকে সানা থেকে ওমানের মাস্কটে সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সুইডেনে শান্তি আলোচনায় বসতে সম্মতি জানায় হুথি বিদ্রোহীরা। এ সপ্তাহেই আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধনি জোট সমর্থিত ইয়েমেন সরকার আগেই বলে রেখেছে তারা আলোচনায় যেতে রাজি।
এ আলোচনাকে সামনে রেখে আহত বিদ্রোহীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। সৌদি জোটের এক মুখপাত্রের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৫০ আহত যোদ্ধা, তিন ইয়েমেনি চিকিৎসক ও জাতিসংঘের এক চিকিৎসককে মাস্কটে সরাতে সোমবার (৩ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের বিমান সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।’
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় আয়োজিত প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল। হুথি বিদ্রোহীরা জেনেভায় যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তখন। বিদ্রোহীদের অভিযোগ ছিল, জাতিসংঘ তাদের প্রতিনিধিদের সানায় ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, আহত বিদ্রোহীদের নিরাপদে ওমানে সরিয়ে নেওয়ারও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। হুথিদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে।