খাশোগি হত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার কোম্পানির

সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার কোম্পানি এনএসও গ্রুপ। এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তারা। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র এক প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।

খাশোগি (ফাইল ফটো)
দুই মাস পেরিয়ে গেলেও খাশোগি হত্যা রহস্যের সুরাহা এখনও হয়নি। সম্প্রতি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, কানাডায় নির্বাসিত সৌদি অ্যাকটিভিস্ট আব্দুল আজিজের মোবাইল ফোন হ্যাক হয়েছে এবং সামরিক গ্রেডের স্পাইওয়্যার দিয়ে তা করা হয়েছে। আর এ আব্দুল আজিজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো খাশোগির। তাদের মূল আলাপনের বিষয়বস্তু ছিল সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন ল্যাবের গবেষককে উদ্ধৃত করে সিএনএন জানায়, ওই সফটওয়্যারটি সৌদি সরকার স্থাপন করেছে। স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা অন্তত দুই ব্যক্তিকে নিশানা করতে এটি মোতায়েন করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, খাশোগি ও আজিজের মধ্যে আদান-প্রদানকৃত মেসেজগুলো হ্যাক করার পরই খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। ওই স্পাইওয়্যারটি উদ্ভাবন করেছে ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও। ২ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আদালতে মামলাও করেছেন আজিজ।

রবিবার (২ ডিসেম্বর) টাইমস অব ইসরায়েলের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনএসও দাবি করেছে, খাশোগি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ ‘পুরোপুরি মিথ্যা’। কোম্পানিটির অভিযোগ, সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মামলাটি করা হয়েছে। খাশোগি ও আজিজের মেসেজ হ্যাক করার ক্ষেত্রে এনএসও’র প্রযুক্তি ব্যবহৃত হওয়ার কোনও প্রমাণ নেই বলেও দাবি তাদের।

এনএসও’র বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের পণ্যের লাইসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে আমরা খুব সতর্ক থাকি। পুরোপুরি ভেটিং ও ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তা সরবরহ করা হয়।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতিরোধের পরিকল্পনা করেছিলেন খাশোগি ও আব্দুল আজিজ। ‘সাইবার বিস’ নামে একটি পোর্টাল খুলতে চেয়েছিলেন তারা। সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ ও শর্টফিল্ম প্রচারের পরিকল্পনা ছিল এই দুই ব্যক্তির। আব্দুল আজিজের সঙ্গে আলাপচারিতাগুলো হ্যাক হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন খাশোগিও। আজিজকে সতর্ক করে তিনি লিখেছিলেন, ‘বিস সম্পর্কে ইনস্ট্রাগ্রামেও আলোচনা করবেন না।’ 

এনএসও গ্রুপের কার্যালয়
ওই মেসেজগুলোতে খাশোগি সৌদি যুবরাজের সমালোচনা করেছেন। যুবরাজকে নিয়ে শঙ্কা ছিল তার। একটি মেসেজে তাকে বলতে দেখা গেছে, ‘যত বেশি শিকার করতে পারেন, ততবেশি তার (সৌদি যুবরাজ) শিকারের আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়।’ আরেকটি মেসেজে সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে খাশোগি লিখেছেন, ‘তিনি জোরজবরদস্তি, দমন-পীড়ন পছন্দ করেন এবং সেগুলো দেখানোর প্রয়োজনবোধ করেন,তবে অত্যাচারের পেছনে কোনও যুক্তি থাকে না।’

সিএনএন-কে আজিজ বলেন, ‘জামালের সঙ্গে যা হয়েছে সেক্ষেত্রে আমার ফোন হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি বড় ভূমিকা রেখেছে। এ কথা বলতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। এ অপরাধবোধ আমাকে শেষ করে দিচ্ছে।’কানাডায় নির্বাসিত সৌদি অ্যাকটিভিস্ট ওমর আব্দুল আজিজকে খাশোগির পাঠানো চার শতাধিক মেসেজ হাতে পেয়েছে সিএনএন। আব্দুল আজিজই মেসেজগুলো সিএনএন-কে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ৫৯ বছর বয়সী খাশোগি একসময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। গ্রেফতার এড়াতে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান খাশোগি। দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন তিনি। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সৌদি আরব জানায়, ইস্তানবুলের কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে খুন হন তিনি। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান খাশোগি হত্যার ঘটনায় সরাসরি সৌদি যুবরাজকে দায়ী না করলেও তিনি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের ‘শীর্ষ পর্যায়’ থেকে হত্যার নির্দেশ এসেছে।