সিরিয়া প্রশ্নে শিগগিরই জেনেভায় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টাফান দ্য মিসতুরা। শুক্রবার জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে এই বৈঠকে সিরিয়ার খসড়া সংবিধান প্রণয়নে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক’ কমিটি গঠন এবং দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা হবে। জাতিসংঘে মিসতুরা’র মাসিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের নির্ধারিত দিন ২০ ডিসেম্বরের আগেই এই আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করতে গত মাসে সিরিয়ার যুদ্ধরত পক্ষগুলো ও মধ্যস্ততাকারীরা কাজখাস্তানে বৈঠকে বসলেও তা ব্যর্থ হয়। সাত বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানে এই সংবিধান প্রণয়নকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া জাতিসংঘ দূত মিসতুরা ওই বৈঠক ব্যর্থ হওয়াকে ‘হারানো সুযোগ’ বলে অভিহিত করেছেন।
চলতি বছরের শুরুতে লোহিত সাগরের অবকাশ কেন্দ্র সোচিতে রাশিয়ার আয়োজিত সিরীয় শান্তি সম্মেলনে সিরিয়ার বিশেষজ্ঞ, নাগরিক প্রতিনিধি, স্বাধীন, নৃতাতত্বিক নেতা এবং নারীদের নিয়ে ৫০ সদস্যের প্রতিনিধি দল গঠন করতে মিসতুরাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরকার পক্ষের ৫০ সদস্যের প্রতিনিধি এবং সমান সংখ্যক বিদ্রোহীদের প্রতিনিধির সমন্বয়ে খসড়া কমিটি গঠনের বিষয়ে ইতিমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ বলেছেন, তার সরকার বর্তমান সংবিধানের সংস্কার শুধু তখনই বিবেচনা করবে যখন সোচি চুক্তি অনুযায়ী সরকার, বিরোধী এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা নতুন খসড়া করবে।
এই সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘের সিরিয়ার বিষয়ক বিশেষ দূত স্টাফান দ্য মিসতুরা বলেন সাংবিধানিক কমিটি গঠনের কাজ এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন কোনও ঘোষণা দেওয়া না হলেও আমরা বেশ কিছু সমঝোতায় পৌঁছেছি।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে ২০১১ সালে শুরু হয় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ। সাত বছরের এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিন লাখ ৬০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ২০১৫ সালে আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পর থেকে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে সিরিয়ার সরকার।