সাংবাদিকতা কাজের প্রতিশোধ হিসেবে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৮ সালের শুরু থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাবিশ্বে হত্যার শিকার হওয়া ৫৩ সাংবাদিকের মধ্যে প্রতিশোধমূলক হত্যার শিকার হয়েছেন ৩৪ জন। আগের বছর ৪৭ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হলেও ১৮ জন প্রতিশোধমূলক হত্যার শিকার হয়। এই তথ্য জানিয়েছে, সাংবাদিক সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যার পাশাপাশি চলতি বছর সাংবাদিকদের কারাবন্দি করার ঘটনাও বেড়েছে।
সিপিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিশোধমূলক হত্যার শিকার হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকেরা যুদ্ধের মধ্যে ক্রসফায়ার ও অন্যান্য বিপজ্জনক কর্তব্য পালন করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। এ বছর সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী দেশ হলো আফগানিস্তান। দেশটিতে এবছর মোট ১৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজন আত্মঘাতী হামলার স্বীকার হয়েছেন। ইসলামিক স্টেটসহ (আইএস) বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এসব আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে।
২০১১ সালের পর এবছর গৃহযুদ্ধ কবলিত সিরিয়া ও ইয়েমেনে সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে কম। এ বছর ইয়েমেনে ৩ জন ও সিরিয়ায় ৯ সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে সিপিজে। ২০১২ সালে দেশটিতে সর্বোচ্চ ৩১ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছিলেন। প্রবেশাধিকার সীমিত ও সংবাদমাধ্যমের পরিদর্শনের জন্য চরম বিপজ্জনক এলাকা হওয়ার কারণে সেখানে নিহতের সংখ্যা কমতে পারে বলে ধারণার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিপিজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছর হত্যার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কারাবন্দি করারও ঘটনা বেড়েছে। বার্ষিক প্রতিবেদনে সিপিজে বলেছে, সংকটের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নানাবিধ জটিল ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সিপিজে বলেছে, প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে আরও বেশি মানুষ সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ পেয়েছে। আর এ কারণেই রাজনৈতিক ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলো সাংবাদিকদের ব্যবহারযোগ্য করতে পেরেছে। এক সময়ে এসব গোষ্ঠী নিজেদের বার্তা ছড়াতে সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করেছে।
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী প্যারিসভিত্তিক আরেক অলাভজনক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার জানায়, ২০১৮ সালে সাংবাদিকদের জন্য প্রাণঘাতী শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। আফগানিস্তান, সিরিয়া, মেক্সিকো ও ইয়েমেনের পরেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। এ বছর দেশটিতে ছয় সাংবাদিক নিহতের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো শীর্ষ পাঁচে চলে আসে যুক্তরাষ্ট্র। নিহতদের মধ্যে গত ২৮ জুন ম্যারিল্যান্ডের ক্যাপিটাল গ্যাজেট সংবাদপত্র কার্যালয়ে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চার সাংবাদিক রয়েছেন। নিহত পঞ্চম ব্যক্তি ছিলেন সংবাদপত্রটির বিক্রয় সহকারী। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সংবাদমাধ্যমে চালানো সবচেয়ে বেশি একক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ছিল ওই হামলা। দেশটিতে নিহত অন্য দুই সাংবাদিক প্রতিকূল আবহাওয়ার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হন।