মুরসির বিরুদ্ধে মিসরের আদালতে সাক্ষ্য দিলেন হোসনি মুবারক

বুধবার কায়কোর একই আদালতে হাজির হয়েছিলেন মিসরের দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট। দেশটির প্রথম গণতান্তিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে জেল পালানোর মামলায় সাক্ষ্য দিতে এদিন আদালতে হাজির হয়েছিলেন ৯০ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আাল জাজিরা জানিয়েছে, উত্তরসুরি মুরসির বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেওয়ার সময়ে বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর দেননি মুবারক।আদালতে হোসনি মুবারক
২০১১ সালে বিক্ষোভের মুখে অবসান ঘটে হোসনি মুবারকের ৩০ বছরের শাসনের। বর্তমানে বয়সের ভারে ন্যুজ্ব এই সাবেক প্রেসিডেন্ট বুধবার একটি বেতের লাঠিতে ভর করে কায়রোর আদালতে হাজির হন। মুরসির বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেওয়ার সময়ে বেশিরভাগ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা হওয়ায় এসব প্রশ্নের জবাব দিতে তার সেনাবাহিনী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল সিসির অনুমতির প্রয়োজন।

চলতি মাসের শুরুতে এই মামলায় হাজির হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মুবারক। তার আইনজীবী ফরিদ আল দেব কায়রোর অপরাধ আদালতে জানিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট সেনা সদস্য হওয়ায় আদালতে হাজির হতে তাকে সেনাবাহিনীর অনুমতি নিতে হবে।

২০১৩ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল সিসির সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকে বহু মামলার মুখোমুখি হয়েছেন মোহাম্মদ মুরসি।  ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার ও নিপীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ২০১৫ সালের এপ্রিলে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।  পরের বছর কাতারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য পাচারের অভিযোগে তাকে আরও ২৫ বছরের দণ্ড দেওয়া হয়। বিচারব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করার দায়ে ২০১৭ সালে তাকে আরও তিন বছরের দণ্ড দেওয়া হয়।

মুরসিকে উৎখাতের পর থেকে বিরোধীদের ওপর দমনাভিযান চালানোর অভিযোগ রয়েছে সিসির বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর নিন্দা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষকে শর্ত ছাড়া নানা অভিযোগে কারাবন্দি রাখা হয়েছে।