নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ

রবিবারের নির্বাচন নিয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বাক্যবাণ প্রত্যক্ষ করছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকটি রেজ্যুলেশনে বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দলের তীব্র লবিং পরিলক্ষিত হয়েছে।

nonameপ্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাচ্ছেন। অন্য অনেকে আবার যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে তা নিয়ে জোরালো উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

মিশিগানের হ্যামট্রামক কাউন্সিলের একজন বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ হাসান। ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনাকে পছন্দ করলেও তিনি মনে করেন তার কিছু কাজ ভুল হচ্ছে।

মোহাম্মদ হাসান বলেন, লোকজন স্বাধীনভাবে প্রচারণা চালাতে পারেনি। বিরোধীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। একটি অবাধ নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, মোহাম্মদ হাসান হ্যামট্রামক কাউন্সিলের নির্বাচনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে কাঙ্ক্ষিত জয় পেতে ব্যর্থ হন তিনি। মোহাম্মদ হাসানকে আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে বিবেচনা করে অনেকে তাকে ভোট দেননি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে তার সরকার দুনিয়াজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা বহু বাংলাদেশি আমেরিকান তাকে দেখে থাকেন দেশের জন্য ‘সবচেয়ে ভালো প্রত্যাশা’ হিসেবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী বাংলা ট্রিবিউন’কে বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে আমি বাংলাদেশে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ দেখতে চাই। আমি এই পর্যায়ে কোনো বাধা দেখতে চাই না।’

একই রকমের মতামত প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যানদের পাশাপাশি ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আহ্বান জানালেও তারা জামায়াতে ইসলামীর মতো ইসলামপন্থী দলগুলোর বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছেন। এই দলগুলোকে দেশের অর্থনীতি এবং অগ্রগতির জন্য হুমকিস্বরূপ হিসেবে বিবেচনা করছেন তারা।

কংগ্রেসম্যান জিম ব্যাংকস সম্প্রতি ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে বলেছেন, বাংলাদেশ একটি উদীয়মান গণতন্ত্রের দেশ যেটি উগ্রপন্থী দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করছে। এই দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার জন্য বাংলাদেশের অগ্রগতিকে পাল্টে দিতে চাইছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত মৌলবাদী ইসলামপন্থী দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা সমর্থন করা।

আমেরিকার সংবাদমাধ্যমগুলোতে অবশ্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যেসব খবর আসছে সেগুলোতে নির্বাচনে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়, গণতন্ত্রের মানদণ্ডের ওপর আঘাত এবং আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাছে ভিসা প্রদানের বিলম্বের মতো অভিযোগগুলো সামনে উঠে এসেছে।

আটলান্টাভিত্তিক একজন বাংলাদেশি আমেরিকান ব্যবসায়ী নাহিদুল খান সাহেল। তিনি বলেন, দেশ সঠিক পথে চলেছে এবং তিনি আশাবাদী যে শেখ হাসিনার অধীনে দেশ এগিয়ে যাবে। তবে তার ভাষায়, তিনি একটি ‘একনায়কতন্ত্র’কে সমর্থন করতে পারেন না। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছুই আইওয়াশ।

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। প্রভাবশালীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।

লাখ লাখ ভোটারের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে, শেখ হাসিনার ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ ভারত ও পাকিস্তানের মতো বৃহত্তর প্রতিবেশী দেশগুলোর সামনে অর্থনৈতিক নানা মানদণ্ডে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের ভাষায়, তারা গণতন্ত্রের বিনাশ সাধন বন্ধ করতে চাইছে।