গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হোবায়দাহ নিয়ে ইয়েমেন সরকার ও ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি। এর আগে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষক দলের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নেদারল্যান্ডের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল প্যাট্রিক কেমারেল। মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি জানিয়েছে, বিগত কয়েক দিনে হোবায়দাতে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি জোট সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অনুগত সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের তীব্রতা বেড়েছে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি রক্ষায় ইয়েমেনের যুদ্ধরত পক্ষগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার গ্রুপটি।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ অবসানে গত ডিসেম্বরে হোবায়দাহ নগরীতে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয় ইয়েমেনের যুদ্ধরত পক্ষগুলো। ইয়েমেন বিষয়ক দূত মার্টিন গ্রিফিতের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। সোমবার তিনি যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে হোবায়দাহ থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। এর একদিন পরই সতর্কতা জানালো ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি’র সদস্য ফ্রাঙ্ক ম্যানাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হোবায়দাহর ভিতরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে আ উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধরবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ফলে চুক্তিটির ওপর ক্রমাগত বিপদ বাড়ছে।
ইয়েমেনে খাবার ও ত্রাণ আমদানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী হোবায়দাহ। এই নগরীর যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে চলতি মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে এক প্রস্তাব গ্রহণ করে। ওই প্রস্তাবের আলোকে হোবায়দাহর যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে ৭৫ জন পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এই দলের প্রধান হিসেবে নিয়োদ দেওয়া হয় নেদারল্যান্ডের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল প্যাট্রিক কেমারেলকে।
গত শনিবার ইয়েমেন পৌঁছানো কেমারেল মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর ফরাসি বার্তা সংস্থা এফপিকে জাতিসংঘের এক কূটনীতিক বলেছেন, কেমারেল-এর স্থলে ডেনমার্কের জেনারেল মাইকেল ললেসগার্ডকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে চার বছর ধরে চলা ইয়েমেন যুদ্ধে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে মানবাধিকার গ্রুপগুলোর দাবি নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে পাঁচগুণেরও বেশি। ইয়েমেন যুদ্ধের কারণে এক কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ইয়েমেনি নাগরিক দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে। জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন মানবিক সংকট বলে আখ্যা দিয়েছে।