মস্কোর বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে রুশ-মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর থেকে জানা গেছে, একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে কেন্দ্র করে শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, আপাতত ৬ মাসের জন্য চুক্তির শর্ত মানার বাধ্যবাধকতা স্থগিত থাকবে। তবে এর মধ্যে রাশিয়ার অবস্থানে বদল না এলে চুক্তি থেকে পুরোপুরি সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ার করেছেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা সামরিক শক্তি অর্জনে পরীক্ষানীরিক্ষা শুরু করবে তার প্রশাসন। ‘চুক্তির শর্ত মেনে চললে’ রাশিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া।
১৯৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র আর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ।ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) নামের এ চুক্তিটির অধীনে শত শত কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করা হয়। এই চুক্তির কারণে ইউরোপে দেশ দুটি স্বল্প ও মধ্যপাল্লা এবং ভূমিকেন্দ্রিক ক্ষেপনাস্ত্র মজুদ করতে পারে না। অতীতের ধারাবাহিকতায় এবার একটি রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে কেন্দ্র করে ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন।
চুক্তি অনুযায়ী এর পক্ষগুলোর ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ৫০০ থেকে ৫,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালেস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার কথা। তবে শুক্রবার পররাষ্ট্র দফতরে মাইক পম্পেও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, রাশিয়া ওই চুক্তি লঙ্ঘন করে নতুন মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নভেটর ৯এম৭২৯ তৈরি করেছে। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর কাছে তা এসএসসি-৮ নামে পরিচিত। গত সপ্তাহে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান সংক্রান্ত বিভাগ জানায় নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ পাল্লা চুক্তির নিম্নসীমাতেও পৌঁছাতে পারে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিং কক্ষে পম্পেও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তিতে রাখার সম্মতি আদায়ের জন্য রাশিয়াকে ‘যথেষ্ট সময়’ দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনও কারণ ছাড়াই বছরের পর বছর রাশিয়া এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তিনি হুঁশিয়ার করেন, রাশিয়া যদি ছয় মাসের মধ্যে আইএনএফ-ভঙ্গকারী ক্ষেপণাস্ত্র, তাদের উৎক্ষেপক ও আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম ধ্বংস করে পূর্ণাঙ্গ এবং পরীক্ষণযোগ্য শর্তের মধ্যে ফিরে না আসে তাহলে চুক্তি বাতিল গণ্য হবে।
এক লিখিত বিবৃতিতে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, শনিবার থেকে ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিধি স্থগিত থাকবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ৬ মাসের মধ্যে চুক্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরাও এখন আমাদের নিজেদের সামরিক জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বিকশিত করার পথে এগিয়ে যাব’।
রাশিয়া বলছে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা চুক্তির আওতায় পড়ে না। মস্কোর অভিযোগ মিথ্যা অজুহাতে চুক্তি থেকে বের হয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ঘটাতে চাইছে। নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্র পেসকভ বলেছেন, কোনো ধরনের যুক্তি না শোনা এবং কোনো ধরনের সমঝোতায় না আসা প্রমাণ করে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র আগেই নিয়েছে।