সামরিক বাহিনী থেকেও এবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক শোনা যাচ্ছে। শনিবার বিমান বাহিনীর এক জেনারেলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ডাক দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলও প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে একই আহবান জানিয়েছেন। গত ২৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত এক সামরিক কূটনীতিক মাদুরোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেও প্রথবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীর কর্মরত সদস্যরাও মাদুরোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণা দিলেন। তবে সেনাবাহিনীর আনুগত্য দাবি করে আসা মাদুরো সরকার বিদ্রোহী কর্মকর্তাদের 'দেশদ্রোহী' আখ্যা দিয়েছে।
গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন দেশটির বিরোধী নেতা জুয়ান গুইদো। বিরোধী নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো’র দ্বিতীয় মেয়াদ ‘অবৈধ' ঘোষিত হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেন তিনি। এর কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত অন্তত ২০টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করেছে। গত ২৭ জানুয়ারি গুইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কর্মরত সেনা সদস্যদেরও তা করার আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার শীর্ষ সামরিক কূটনীতিক কর্নেল জোস লুইস সিলভা।
শনিবার সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রথম সদস্য হিসেবে জুয়ান গুইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেন বিমানবাহিনীর জেনারেল ফ্রান্সিসকো জানিয়েস। টুইটারে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে বিমান বাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিংয়ের প্রধান জানিয়েস দাবি করেন সশস্ত্র বাহিনীর ৯০ শতাংশ এখন মাদুরোকে সমর্থন করছেন না। তবে নিজস্ব ওয়েবপেজে তাকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়েছে ভেনেজুয়েলার বিমানবাহিনী।
টুইটারে জানিয়েসের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই রাজধানী কারাকাসের বাইরে আরাগুয়ায় মাদুরোবিরোধী এক বিক্ষোভে যোগ দেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল আন্দ্রেস এলোয় ভলকান। টুইটারে পোস্ট করা ওই বিক্ষোভের ভিডিওতে তাকে জুয়ান গুইদো প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে শোনা যায়। ‘গণতন্ত পুনপ্রতিষ্ঠায়’ সামরিক বাহিনীর অন্য সদস্যদেরও তাকে অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল, কলম্বিয়াসহ ২০টি দেশ গুইদোকে ভেনেজুয়েলার ‘অন্তর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও মাদুরোকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান, কিউবা, মেক্সিকোসহ বেশ কয়েকটি দেশ। সেনাবাহিনীরও পূর্ণ আনুগেত্যর দাবি করে আসছেন মাদুরো।