প্রেসিডেন্টের মেয়াদসীমা বাড়াতে সংবিধান সংশোধনের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে মিসরের পার্লামেন্ট। প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করার পাশাপাশি তাকে শীর্ষ বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে ২০২২ সালের পরও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। এক বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে সংবিধানে সংশোধনী আনা হবে ধরে নিয়েই সরকারের সঙ্গে আচরণ করছে মিসরের বিরোধী গ্রুপগুলো।
দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার আগে বিরোধীদের ওপর নজিরবিহীন নিপীড়ন চালান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে এমন প্রার্থীদের হয় কারাবন্দি, না হয় চাপ দিয়ে নির্বাচন বর্জনে বাধ্য করার পর অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনে গত বছর জয় পান তিনি। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বরাবর দাবি করে আসছেন মিসরের জনগণ না চাইলে ক্ষমতায় থাকবেন না তিনি। সংবিধান সংশোধনেও সায় নেই বলে দাবি করে আসছেন তিনি।
মিসরের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংবিধানে কোনও সংশোধনী আনতে হলে প্রেসিডেন্ট অথবা পার্লামেন্টের এক পঞ্চমাংশ সদস্যকে সেই প্রস্তাব উত্থাপন করতে হয়। আর ৫৯৬ আসনের পার্লামেন্টের দুই তৃতীয়াংশ সদস্য সেই প্রস্তাব অনুমোদন করলে সংবিধান সংশোধন করা যায়। গত রবিবার প্রয়োজনীয় এক পঞ্চমাংশ সদস্য পার্লামেন্টে সংশোধন প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ওই দিন প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি বলেন, সংবিধান সংশোধনের এই প্রস্তাবের স্বার্থ ‘রাষ্ট্র এবং মিসরের জনগণের কল্যাণের গভীরে নিহিত’।
মঙ্গলবার স্পিকার আলি আবদেল আল জানিয়েছেন দুই-তৃতীয়াংশ আইন প্রণেতা সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। ফলে গত বছরের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতালাভের পর ২০২২ সালে মেয়াদ শেষের কথা থাকলেও তারপরও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন তিনি।
মঙ্গলবার মিসরের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়ে তাহরির ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট পলিসির বিশ্লেষক টিমোথি কালদাস আল জাজিরাকে বলেন, সংবিধানে সংশোধনী আনা হবে জেনেই বিগত কিছু দিন ধরেই সরকারের সঙ্গে আচরণ করছে মিসেরের বিরোধী গ্রুপগুলো। তিনি বলেন, বেশ কিছু সময় ধরেই আমরা এমন সংশোধনীর কথা চিন্তা করছিলাম। তবে ২০২৪ সাল নাগাদ প্রেসিডেন্ট সিসির ক্ষমতাত্যাগের ক্ষেত্রে এটা একটা আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ মাত্র। তিনি বলেন, সিসির শাসনের দীর্ঘসূত্রিতা আনার চেয়ে এই সংশোধনের লক্ষ্য হলো বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো।