ভিয়েতনামের উদ্দেশে উত্তর কোরীয় নেতার ট্রেন যাত্রা শুরু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠকে অংশ নিতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের উদ্দেশে ট্রেনে করে যাত্রা শুরু করেছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তার যাত্রা শুরুর খবর নিশ্চিত করেছে। বিবিসি বলছে, এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া গেল আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার ট্রাম্প-কিমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শনিবার স্থানীয় সময় রাত নয়টার কিছু পরে তিনি চীন সীমান্তের ড্যানডং শহরে পৌঁছান বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।

ট্রেনে করে হ্যানয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন

গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম ঐতিহাসিক বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি হয়। যৌথভাবে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে একমত হন তারা। তবে নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় দু’দেশের মধ্যে দর কষাকষি চলছে। সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের রাজধানীতে দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসছেন তারা।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কিম জং উনের যাত্রা শুরুর কথা নিশ্চিত করে বলছে, ট্রাম্প-কিম বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাড়াও সফরের অংশ হিসেব ভিয়েতনামে শুভেচ্ছা সফর করবেন কিম। ধারণা করা হচ্ছে এই সফরে কিমের সঙ্গে থাকছেন রয়েছেন তার বোন কিম ইয়ো জং এবং মুখ্য আলোচক ও সাবেক জেনারেল কিম ইয়োং চোল।

বিবিসি বলছে, এই দফার আলোচনায় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায় এমন ফলাফল বা অন্ততপক্ষে এলক্ষ্যে সীমিতমাত্রায় হলেও রোডম্যাপ নির্ধারণের প্রত্যাশার বিষয়ে দুই নেতাই সতর্ক থাকবেন।  এজন্য দুই পক্ষই কী ধরণের ঐক্যমত প্রস্তুত করে তার ওপরে নজর রাখবেন বিশ্লেষকরা।

ওয়াশিংটনের প্রকৃত অবস্থান হলো উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত কোনও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগেই এককভাবে পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে। তবে কয়েকদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে জোর করতে তাড়াহুড়া করতে চান না তিনি।

বিবিসির ধারণা এবারের দফায় ট্রাম্প-কিম বৈঠকে সম্ভবত আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা আসবে। কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, উত্তর কোরিয়াকে বাস্তব অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানাবে যুক্তরাষ্ট্র। অল্প এর অংশ হিসেবে সামান্য কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়াকে ইয়োংবিয়োং পারমাণবিক কেন্দ্র ও মিসাইল ঘাঁটি ভেঙে ফেলার কথা বলা হবে।