বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা জটিলতা তদন্তে ব্রিটিশ পর্যবেক্ষক সংস্থা

হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা নিয়ে জটিলতা নিয়ে সরকারের কার্যক্রম তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল অডিট কার্যালয় (এনএও)। এসব বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহু বাংলাদেশিও রয়েছে। ভিসা সংশ্লিষ্ট বাধ্যতামূলক ইংরেজি ভাষা বিষয়ক পরিক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে এসব শিক্ষার্থীকে ভুলভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে একটি অভিবাসন গ্রুপ যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তদবির শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহে এই তদন্ত শুরুর কথা নিশ্চিত করেছে এনএও।noname

প্রায় ৩৬ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করায় তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটিশ সরকারের ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এনএও।  উইন্ডরাশ স্ক্যান্ডাল নামে পরিচিত এই জালিয়াতির অভিযোগে কমনওয়েলথভুক্ত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ভুলভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।

এনএও-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার জালিয়াতি মনোযোগ আকর্ষণ ধরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক ডকুমেন্টারি। এই জালিয়াতিতে ইংরেজি ভাষা পরিক্ষায় ব্যাপক জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের কথা উঠে আসে। জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র দফতর শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে উইন্ডরাশ স্ক্যান্ডালের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে জনগণ এবং পার্লামেন্টে গভীর তদন্তের আওতায় আসে’।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কতজন মানুষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এসেছে আর স্বরাষ্ট্র দফতর কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে সেই তথ্য খতিয়ে দেখছে এনএও।

এই ইস্যুতে পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছে তদবির করা সংগঠন মাইগ্রান্ট ভয়েসের ধারণা পাঁচ বছর আগে বিবিসি টেলিভিশনের ভুয়া জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে বহু শিক্ষার্থীকে ভুলভাবে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনেকেই দেশটিতে থেকে গিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছে।

এনএও-এর তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে মাইগ্রান্ট ভয়েস এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দৃশ্যত স্বরাষ্ট্র দফতর এই ইস্যুতে অন্যায্য ও অস্বচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে। আর সত্যকে সামনে আনার এখনই সবচেয়ে ভালো সময়।

ভিসা বাতিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার অনেকের একজন ফাতেমা চৌধুরী। ২০১০ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আসেন তিনি। ২০১৪ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য ইংরেজি পরিক্ষা (টিওইআইসি)-ত জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে। তবে এই অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে থাকেন তিনি। যুক্তরাজ্যে কাজের অধিকার বঞ্চিত হওয়া ফাতেমা বলেন, আমি প্রতিদিনই কাঁদি। যখন কেউ আপনাকে কেউ প্রকাশ্যে জালিয়াত বলবে আর গ্রেফতার করে অপদস্ত করবে।

বিবিসি টেলিভিশনে প্রচারিত এক তদন্তে ২০১৪ সালে দেখানো হয়েছিল যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন কলেজ টিওইআইসি পরিক্ষায় প্রস্তাব দিয়েছে আর বেশ কয়েকটি জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ে। এর পরেই তদন্ত শুরু করে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতর। ওই তদন্তে দেখা যায়, ৩৩ হাজার ৭২৫টি পরিক্ষার ফলাফল অকার্যকর আর ২২ হাজার ৬৯৪টি ফল প্রশ্নসাপেক্ষ। প্রশ্নসাপেক্ষ এসব ফলাফল পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হয় তবে অন্যদের কোর্স বাতিল করা হয় আর বহুক্ষেত্রে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

গত বছর ‘আমার ভবিষ্যত ফেরত চাই’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয় অনেকেই অভিযোগ করেছেন তাদের ভুলভাবে অকার্যকর বিভাগে ফেলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়, এই ঘটনায় আক্রান্ত  বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত থেকে আসা।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ইস্যু নতুন করে খতিয়ে দেখছেন তবে কবে নাগাদ তার ফলাফল জানানো হবে তা নিশ্চিত নয়।

ন্যাশনাল অডিট কার্যালয় (এনএও) –এর তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তা বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর।