ভারত শাসিত কাশ্মিরে গত কয়েক দিন ধরে চলা অচলাবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এই অব্স্থা মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দেবে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র। গত মাসে কমিশনের এক প্রতিবেদনে তোলা অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক অচলাবস্থা কাশ্মিরের পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত সেনা। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাশ্মির ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
এই পরিস্থিতি সৃষ্টির আগে গত মাসে কাশ্মির ইস্যুতে দ্বিতীয় বছরের মতো প্রতিবেদন দাখিল করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। এতে বলা হয়, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির প্রশাসন কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারী, রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে বিনা বিচারে আটকের বিভিন্ন ধরন ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে এমন পরিস্থিতির জন্য ভারতকে দায়ী করা হয়।
বুধবার টুইটারে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় কাশ্মিরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আগের উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র। বর্তমান অচলাবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই বার্তায় বলা হয় তা কাশ্মিরের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দেবে। তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগ যেভাবে বন্ধ করা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে হয়তো এর আগে এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেখিনি। জাতিসংঘের এই মুখপাত্র বলেন, এর মাধ্যমে জম্মু কাশ্মিরের ভবিষ্যত মর্যাদার প্রশ্নে কোনও গণতান্ত্রিক বিতর্কে অংশ নেওয়া থেকে সেখানকার জনগণকে বিরত রাখা হবে।