খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি লন্ডনে এসে নিজের অনুসারী ও সাবেক জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, সমর্থকদের বাসা ও ছোট ছোট ডিনার পার্টিতে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে চেষ্টা করছেন জামায়াতের নেতাকর্মী, বড় ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের নিজের দলে টানতে। চেষ্টা করছেন জামায়াতের আর্থিক জোগানের বড় উৎস লন্ডনে ভাগ বসাতে।
রাজনৈতিক এ সফরে মঞ্জু বিবিসিসহ লন্ডনের স্থানীয় বাংলাদেশি চ্যানেল এসটিভি, ওয়ান টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তার অনুসারীরা এগুলো আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন।
আলাপকালে জামায়াতের আর্থিক দূর্গ যুক্তরাজ্যে কতটা ভাগ বসাতে পারবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে শুধু জামায়াতের নয়, অন্য দলের লোকজনও আছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমরা বসছি। টাওয়ার হ্যামলেটসের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক মেয়র লুতফুর রহমানসহ অনেক পেশাজীবী সম্পাদকের সঙ্গেও আলোচনা করেছি।
কোনও নির্দিষ্ট দল টার্গেট নয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, লন্ডনে আমাদের উদ্যোগের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালমনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকের একাংশের সভাপতি হারুনুর রশীদ। হারুনুর রশীদ কখনও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে অপর দুই সমন্বয়কারী আবদুল আউয়াল মামুন ও সৈয়দ জুলকার নাইন ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাকর্মী বলে স্বীকার করেছেন মঞ্জু।
এদিকে মুজিবুর রহমান মঞ্জুর নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ জামায়াতের লন্ডনের দুর্গে হানা দিতে পারবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও লন্ডনের সাবেক স্কুলশিক্ষক ফরিদ আহমদ রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার মনে হয় তরুণদের অনেকে তাদের নতুন দলে যোগ দেবে। তবে সঠিকভাবে এটা বোঝার জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। দল ঘোষিত হওয়ার পর বোঝা যাবে জামায়াতের কত সংখ্যক লোক সেখানে যাবে। সংখ্যাটা বেশি হলে জামায়াত সাংগঠনিক ও আর্থিক দিক দিয়ে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ এবার লন্ডন সফররত মঞ্জুর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে বলেও জানান রেজা।
তবে লন্ডনে মঞ্জুর সাংগঠনিক সফর জামায়াতের রাজনীতির ক্ষতি করতে পারবে না বলে দাবি করেছেন দলটির ইউকে ও ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। তিনি বলেন, ‘জামায়াতকে যারা ভালোবাসে তারা সবাই চিন্তা ও আদর্শে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন ও থাকবেন। ইনশাআল্লাহ কোনও ব্যক্তির বা ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় জামায়াতে ইসলামীর ঐক্য ও সংহতির কোনও ব্যত্যয় ঘটবে না।’