ইরান থেকে তেল কেনায় চীনের ছয় কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইরান থেকে তেল কেনার জন্য চীনের কসকো শিপিং কর্পোরেশন লিমিটেডসহ ছয়টি কোম্পানি ও কয়েকজন ব্যবসায়ীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এ সব কোম্পানি ও ব্যক্তি দেশটির নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছেন। সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব অ্যামেরিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার নিউ ইয়র্কে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ওই নিষেধাজ্ঞার কথা জানান।

364C0880-9D24-4190-874C-9BFC2F7E48F3

চলতি মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর সৌদি আরবের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে হামলার নেপথ্যে ইরান জড়িত রয়েছে বলে দাবি করে। হামলার পর ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা দায় স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলার পেছনে ইরানকে দায়ী করে আসছে। যদিও ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইরান। এরপরই ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপের প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেশটির ন্যাশনাল ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ওই সব  (চীনা) কোম্পানির নির্বাহী প্রধানদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছি। নিষেধাজ্ঞার নীতি লঙ্ঘনের জন্য আমরা আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবো।’

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ওই নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেছে। এর আগে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার পর লস অ্যাঞ্জেলেসে সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছি।’ এর আগে এক টুইটে তিনি জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নুচিনকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বাড়ানোর ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনের পাঁচ ব্যক্তি এবং ছয়টি প্রতিষ্ঠানের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে কসকো শিপিং কর্পোরেশনের দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে ওই পদক্ষেপ নেয় দেশটি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনের অবকাশে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ‘আমরা চীনসহ সবাইকে বলছি তাদের জেনে রাখা উচিত যে- নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলেই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইরান যতোই চাপ কমানোর চেষ্টা করবে তাদের ওপর আমরা ততোই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং কোম্পানিকে এ কথা বোঝানোর চেষ্টা জোরদার করবো যে,  কেউ যদি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র সঙ্গে সম্পর্ক রাখে তাহলে কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে এবং তারা যদি আমাদের এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তাহলে তারা শাস্তির মুখে পড়বে।’

নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে যে সব কোম্পানির ওপর, সেগুলো হলো: কসকো শিপিং ট্যাংকার (ডালিয়ান) কোম্পানি, কসকো শিপিং ট্যাংকার (ডালিয়ান) সিম্যান, চায়না কনকোর্ড পেট্রোলিয়াম কোম্পানি, কুনলুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেড, কুনলুন হোল্ডিং কোম্পানি লিমিটেড এবং পেগাসুস ৮৮ লিমিটেড। তবে কসকো গ্রুপের মূল প্রতিষ্ঠান শিপ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হবে না। সূত্র : পার্সটুডে, ভয়েস অব অ্যামেরিকা।