যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনকে অনুরোধ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ফোনকলের বিস্তারিত ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই প্রতিবেদনে জানা যায়, ওই 'ফোনকল প্রতিলিপির বিস্তারিত' গোপন করতে চেয়েছিলেন হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা। হোয়াইট হাউজের ফোনকলের প্রতিলিপিতে দেখা গেছে, ট্রাম্প গত ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ওই সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তের জন্য বারবার অনুরোধ করেন ট্রাম্প।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের এক ফোনালাপের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ওই বিতর্ক সামনে আসে। ওই ফোনালাপে কী বিষয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত না করলে ইউক্রেনে সামরিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। জো বাইডেন হচ্ছেন ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রধান ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারকে তদন্তের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দোষ প্রমাণিত হলে অভিশংসনের খড়গ ঝুলে রয়েছে ট্রাম্পের ওপর।
তবে অভিশংসন প্রক্রিয়াকে ‘প্রতারণা’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
জেলেনস্কির সঙ্গে জো বাইডেনের বিষয়ে আলোচনার কথা অবশ্য স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, সামরিক সহায়তা বন্ধ করার হুমকি দিয়ে তিনি ইউরোপের কাছ থেকে সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন। তবে ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ট্রাম্প যা করেছেন তা বেআইনি। এটি তার সাংবিধানিক দায়িত্বের লঙ্ঘন। এর জন্য তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ জাতীয় তথ্যের জন্য সাধারণত কম্পিউটার সিস্টেমে প্রতিলিপিটি সংরক্ষণ করা হয় না। তবে এটি একটি বিশেষ সংবেদনশীল ধরনের তথ্য শ্রেণীতে সংরক্ষণ করা হয়েছিলো।
ওই প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা ওই ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করতে যাচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে কংগ্রেসে অভিযোগ জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক যোসেফ মাগুয়ের।