সৌদি আরবে জনসম্মুখে ‘অশালীন’ কোনও কাজকর্ম করলে জরিমানা গুনতে হবে। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের এই কট্টরপন্থী দেশটি জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি জনসম্মুখে ‘অশালীন’ পোশাক পরলে, প্রকাশ্যে চুম্বন করলে অথবা এ ধরনের অন্য কোনও কর্মকাণ্ডের জন্য জরিমানার মুখোমুখি হবেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিদেশি পর্যটকদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করার একদিন পর শনিবার এ ঘোষণা দেয় দেশটি।
তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে দেশটি এবার পর্যটনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার। বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার ৪৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই ভ্রমণ ভিসা চালুর ঘোষণা দেয়া হয়। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশসহ ৪৯টি দেশের নাগরিকরা ই-ভিসায় বা অন অ্যারাইভেল ভিসায় সৌদি আরব ভ্রমণ করতে পারবেন।
পর্যটন ভিসা চালুর একদিনের মাথায় শনিবার সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নতুন আইন অনুযায়ী পুরুষ ও নারীদের শালীন পোশাক পরতে হবে এবং প্রকাশ্যে অনুরাগ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে। শালীন পোশাক পরার ক্ষেত্রে নারীরা স্বাধীনতা ভোগ করবে। সৌদি আরবে আসা ভ্রমণকারী ও পর্যটকরা যেন রাজ্যটিতে প্রকাশ্যে চলাফেরার সঙ্গে সম্পর্কিত আইন সম্পর্কে সজাগ থাকে ও তা মেনে চলে তা নিশ্চিত করতেই এ আইন করা হয়েছে।’ দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের ১৯ ‘অপরাধ’ শনাক্ত করার কথা জানালেও জরিমানার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে জানায়নি।
সৌদি আরব এতদিন ধরে মূলত হজযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং অভিবাসী শ্রমিকদেরই ভিসা দিতো। তবে ২০১৭ সালে তেলের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমাতে সৌদি যুবরাজ এক সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সংস্কার প্রক্রিয়ার আওতায় এরইমধ্যে সৌদি নারীদের গাড়ি চালানো ও পুরুষ সঙ্গী ছাড়া দেশের বাইরে ভ্রমণের অনুমতির পাশাপাশি পর্যটন খাতকে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটক মিলিয়ে বছরে ১০ কোটি ভ্রমণপিপাসুকে আকৃষ্ট করে জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৩ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ নিশ্চিত করতে চায়; এ খাতে চাকরি সৃষ্টি করতে চায় অন্তত ১০ লাখ।