ইতালির ভেনিসে ইসলাম শিক্ষার সময় শিশুকে মারধরের অভিযোগে স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ইমামের নাম জানা না গেলেও তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে জানা গেছে। তার বাড়ি নরসিংদীতে। তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২৩ বছর বয়সী ঐ ইমাম বাংলাদেশের নাগরিক। পাদোভা ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নামের মসজিদে শিশুদের কোরআন শরীফ পড়া শেখানোর শিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটিতে বিপুল সংখ্যক ইতালীয় বাংলাদেশি শিশুও কোরআন শিক্ষা নিতে যায়। পাচঁ থেকে দশ বছর বয়সী শিশু কয়েকজন শিশুকে পড়াবার সময় পিটিয়ে আহত করেন তিনি। ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রহার করেছেন তিনি। কাউকে কাউকে মাথায়ও আঘাত করেছেন এবং হুমকিও দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, আটক ইমামকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে তার নাম ও পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনায় পাদোভার মেয়র সার্জিও গিওরদানি বলেন, আমি প্রসিকিউটর ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের তদন্তের ফলেই আজকের এই ঘটনা ঘটলো। তিনি বলেন, শিশুদের অবশ্যই মারধর করা উচিত নয়। আর প্রতিষ্ঠানটি এই কাজ তাই মেনে নেওয়া যায় না। এটা বন্ধ করে আমাদের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেলে ইতালি প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত একজন সাংবাদিক নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, মসজিদ বা ঐ ইসলামীক সেন্টারটি এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগেই প্রতিষ্টিত। তারা অনেক বছর কষ্ট করে স্থানীয় শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মসজিদের অনুমোদন নিয়ে নিজেরা চাঁদা তুলে মসজিদটি চালাতেন।
সেখানে কোরআন শিখতে আসা ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনার খবর সেখানে দিনভর দেশটির চ্যানেল চ্যানেলগুলোতে দেখানো হয়। এদিকে এ ঘটনায় ইতালির সরকার ও রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই খুব স্পর্শকাতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর ব্যবস্থা নেবার কথা বলেছে। এই ঘটনার জের ধরে প্রশাসন ঐ মসজিদটি বন্ধ করে দিতে পারে।
জানা গেছে, ঐ ইমামকে শিশুদের গায়ে হাত না তুলতে আগেই মসজিদ পরিচালনা কমিটি আগেও কয়েকদফা সতর্ক করে দিয়েছিল। গ্রেফতার হওয়া ঐ ইসলামি শিক্ষকের বাড়ি নরসিংদীতে।