ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে দিন, না হলে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ান: বিহারের মন্ত্রী

চলতি বছরের মৌসুমী বৃষ্টিপাতে ব্যাপক বন্যার কবলে পড়েছে ভারতের বিহার রাজ্য। রাজ্যের ১২টি জেলাকে প্রতিবছরের বন্যার কবল থেকে রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যটির পানিসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধটি হয় সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হবে না হলে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো নিশ্চিত করতে টেকসই কোনও সমাধান বের করতে হবে।noname

চলতি বছর ভারী বৃষ্টিপাত থেকে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত হয়েছে বিহার, উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা। এ অবস্থায় বিহার সরকারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি খুলে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা বাঁধের সব স্লুইসগেট। ফলে প্রবল বেগে ফারাক্কার পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় দেখা দিয়েছে প্রবল বন্যা।

এমন প্রেক্ষাপটে নিজ রাজ্যকে বন্যার কবল থেকে রক্ষায় মঙ্গলবার বিহারের মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা বলেন, হয় ফারাক্কা বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে হবে অথবা এর ১১৯টি স্লুইসগেট দিয়ে পানির প্রবাহ বাড়াতে কোনও বিকল্প পদক্ষেপ নিতে হবে। কেন্দ্র সরকারকেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আর বিহারের কোটি কোটি মানুষের স্বার্থে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সঞ্জয় কুমার ঝা বলেন, বিকল্প হিসেবে বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ বাড়াতে কিছু সংস্কার কাজ করতে হবে। নদীর তলদেশে জমা হওয়া পলি অপসারণে বড় আকারে ড্রেজিং কার্যক্রমও আরেকটি বিকল্প হতে পারে। তিনি জানান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার কয়েকটি ফোরামে পলি অপসারণের ইস্যুটি তুলেছেন।

বিহারের পানিসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা বলেন, ১৯৭৪ সালে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর গত তিন দশকে নদীর তলদেশে পলি জমে গঙ্গা তীরবর্তী বিহারের ১২টি জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তিনি বলেন, পলি জমা হওয়ার কারণে পাটনা থেকে পানি প্রবাহিত হয়ে ফারাক্কার দিকে প্রবাহিত হতে পারছে না। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পাটনার এমপি রবি শঙ্কর প্রসাদ দাবি করেন যে তিনি কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রীকে ১১৯টি গেট দিয়ে পানির প্রবাহ বাড়াতে বলেছেন। ওই বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে সঞ্জয় কুমার ঝা বলেন, আমরা জানতাম ফারাক্কা বাঁধে ১০৯টি স্লুইসগেট আছে কিন্তু কখন এর গেট সংখ্যা বাড়িয়ে ১১৯টি করা হলো সে বিষয়ে কিছু জানতে পারলাম না।

বিহারের পানিসম্পদ মন্ত্রী এই বছরের বৃষ্টিপাতে রাজ্যের ২৩টি জলাধারের ধারণক্ষমতার ৮০ শতাংশ পূর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে চন্দন, মহাদেব ও কোহিরা জলাধার তাদের ধারণক্ষমতার একশো ভাগই পূর্ণ রয়েছে বলে জানান তিনি।