সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

সাবমেরিন থেকে সফলভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করলো উত্তর কোরিয়া। তারা জানায়, সমুদ্রসীমাকে বহিঃহুমকি থেকে সুরক্ষায় ও আত্মপ্রতিরক্ষার সক্ষমতা জানান দিতে এই পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনার ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়ার পর এটা তাদের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

download

 

মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া জানায়, আগামী শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা আবার শুরু করবে। গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সাক্ষাতের পর এই প্রথম দু’দেশের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বুধবার প্রথমে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা জানিয়েছিলো দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বলেছেন, উত্তর কোরিয়া একটি ‘অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র’ নিক্ষেপ করেছে। আর জাপান বলেছে, উত্তর কোরিয়া সম্ভববত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তা জাপানের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পড়েছে। ঘটনাটি নিশ্চিত করে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে সাবমেরিন থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়।

পরীক্ষার পর কুশীলবদের ‘উষ্ণ অভিনন্দনবার্তা’ পাঠিয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। দক্ষিণ কোরীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় কিম উপস্থিত ছিলেন না।

এ ঘটনায় ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ওনসান থেকে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। আমাদের সেনাবাহিনী অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে ও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আর জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেছেন, এটি পুরোপুরি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মের লঙ্ঘন।

ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ে ট্রাম্প-কিম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে সব পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের কথা বললে পিয়ংইয়ং মার্কিন নেতৃত্বাধীন সব আন্তর্জাতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি করে। দুই পক্ষ পারস্পরিক সম্মতিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় ভেস্তে যায় আলোচনা। হ্যানয়ের বৈঠক ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর গত ৩০ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে ওয়ার্কিং লেভেলে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে সম্মত হন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। তবে এখনও সেই আলোচনা শুরু হয়নি।