যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএস’কে (ইসলামিক স্টেট) সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের তেল ক্ষেত্রের ওপর পুনঃনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দেবে না ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) টুইট বার্তায় ট্রাম্প এ কথা বলেন।
সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর সে দেশের উত্তরাঞ্চলে কুর্দিদের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করে তুরস্ক। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। অভিযোগ ওঠে, তুরস্ককে কুর্দিদের ওপর হামলার সবুজ সংকেত দিতেই তিনি সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তুর্কি হামলায় সিরিয়ায় কুর্দিদের প্রাণহানির এক পর্যায়ে বুধবার (২৩ অক্টোবর) তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার যেখানে আমাদের তেল আছে, সেখানে আমাদের কিছু সংখ্যক সেনা অবস্থান করবে।’ তবে কোথায় যুক্তরাষ্ট্রের কতোজন সেনা অবস্থান করবে তা স্পষ্ট করেননি প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প কেবল বলেছেন, ‘আমরা আমাদের তেলের সুরক্ষা দেবো।’
একদিন পর সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে টুইটারে ট্রাম্প বলেন, ‘কুর্দি-তুর্কি প্রসঙ্গে আমার গতকালের বক্তব্যে আমি যে তেলক্ষেত্রগুলোর প্রসঙ্গ আলোচনা করেছি, সেগুলো কুর্দিদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসার আগ পর্যন্ত আইএসের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আমরা কখনও ওই তেলক্ষেত্রগুলোতে আইএসের পুনঃনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দেব না।’
The Oil Fields discussed in my speech on Turkey/Kurds yesterday were held by ISIS until the United States took them over with the help of the Kurds. We will NEVER let a reconstituted ISIS have those fields!
— Donald J. Trump (@realDonaldTrump) October 24, 2019
২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের উৎখাতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। তার আগ মুহূর্তে ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। পরে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত ১৭ অক্টোবর ৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় আঙ্কারা। যুদ্ধবিরতিকালে তুর্কি বাহিনী সিরিয়াতেই অবস্থান করছিলো। তবে সে সময় কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি তারা।
গত ২৩ অক্টোবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, সিরীয় কুর্দিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার এক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক ও রাশিয়া। উভয়দেশ চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর তুর্কি সীমান্তে টহল শুরু করেছে রুশ সেনারা। এরপরই ট্রাম্প সেখানে তাদের তেল ক্ষেত্র সংরক্ষণে সেনা অবস্থানের কথা বলেন।