জর্ডানে ফিলিস্তিনি দূতাবাস খুলবে মালয়েশিয়া: মাহাথির

ফিলিস্তিনকে সহায়তা করতে দূতাবাস খুলবে মালয়েশিয়া। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে পশ্চিমা স্বীকৃতির প্রতিবাদে জর্ডানে এই দূতাবাস খুলবে তারা। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে আরও বেশি সহায়তা দেবে কুয়ালালামপুর। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বাকু কংগ্রেস সেন্টারে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ স্ট্রেইটস টাইমস’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

Capture

১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর আরও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করেছে।

মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘ইসরায়েল অবৈধভাবে ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে বসতি স্থাপন করেছে। সবচেয়ে খারাপ পদক্ষেপ হলো, ইসরায়েল ঘোষণা করেছে তারা পশ্চিম তীরেও বসতি করবে। যা স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’

মাহাথির আরও বলেন, ‘আমাদের পক্ষে থেকে, মালয়েশিয়া সর্বজনস্বীকৃত ফিলিস্তিনে একটি দূতাবাস খুলবে। আমরা জানি, দখলকৃত ভূখণ্ডে মালয়েশিয়াকে দূতাবাস খুলতে অনুমতি দেবে না ইসরায়েল। এ জন্য তা জর্ডানে স্থাপন করা হবে।’

মাহাথির জাতিসংঘকে ইঙ্গিত করে বলেন, ফিলিস্তিনের মানবিক সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তেমন কিছুই করছে না। শক্তিশালী দেশগুলো একটা বিশ্ব সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল, এখন দেখছি কিছু লোক ওই সংস্থার অধ্যাদেশ নামছে না- এটা দুর্ভাগ্যজনক। এখন অন্যরাও তাদের (ইসরায়েল) সমর্থন করছে।’

ন্যাম সদস্য দেশগুলোকে জেরুজালেমে দূতাবাস খুলতে বা মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করে অনুরূপ পরিকল্পনার আহ্বান জানান মাহাথির।