বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের কার্যালয়ে শপথ গ্রহণ করেন মৌরিচিও। শপথ গ্রহণের পর দেওয়া প্রথম ভাষণে সব আর্জেন্টাইনের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। রাজনীতি তার কাছে প্রতিযোগিতা নয় বলেও দাবি করেন নতুন প্রেসিডেন্ট।
১৯৮৩ সালে দেশটির সামরিক শাসনের অবসানের পর এই প্রথম নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেন না বিদায়ী প্রেসিডেন্ট।
এর আগে, বুধবার রাতে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ। সেসময় নতুন মধ্যম-ডানপন্থী সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করছে এমন বোধ তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে রাস্তায় নেমে এসে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। সেসময় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বুধবার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নিজের ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের জন্য বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরেন ফার্নান্দেজ। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, আমরা যা কিছু অর্জন করেছি তা যেন কোনওভাবে নষ্ট না হয় তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আপনাদের যখন মনে হবে যাদের ওপর আস্থা করে ভোট দিয়েছেন তারা ধোঁকা দিচ্ছে, তখনই তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।
গত মাসে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটে রক্ষণশীল মৌরিচিও ম্যাক্রির কাছে হেরে যান ক্রিশ্চিনা ফার্নান্দেজের নির্বাচিত প্রার্থী ড্যানিয়েল সিওলি। শিগগিরই নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মৌরিচিওর শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। ক্ষমতাগ্রহণের পর উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি আর নিম্ন বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভজনিত সঙ্কট সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে মৌরিচিওকে। তবে নির্বাচনে জয়লাভের পর পরই ব্যাপক পরিবর্তন আর সমন্বয়সাধনের মধ্য দিয়ে নতুন যুগের সূচনা করার ঘোষণা দেন মৌরিচিও।
গত ১২ বছর ধরে আর্জেন্টিনার ক্ষমতা ছিল ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ এবং তার প্রয়াত স্বামী নেস্টর ক্রিশ্চনারের হাতে। কল্যাণ ভাতার পরিসর বাড়ানো, কিছু কোম্পানিকে জাতীয়করণ এবং সমকামী বিয়েসহ নতুন নতুন নাগরিক অধিকার প্রণয়নের কারণে শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন ক্রিস্টিনা।
এদিকে গণতন্ত্রে ফেরার পর মৌরিচিওই আর্জেন্টিনার প্রথম মধ্যম-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট। এখনও নিজের অর্থনৈতিক নীতির বিস্তারিত না জানালেও বাজারে আস্থা ফেরাতে মৌলিক পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে ক্রিস্টিনার দলের অনেকেই আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন ধরে রাখায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে মৌরিচিওকে। সূত্র: বিবিসি।
/এফইউ/এএ/