ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি-র ২০০ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। মঙ্গলবার জোটের পক্ষ থেকে তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি-র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
সৌদি সামরিক জোট জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল মালিকি জানিয়েছেন, বন্দি বিনিময়ের লক্ষ্যে এবং যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া স্টকহোম চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাতে এ বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে সৌদি-ইয়েমেন সীমান্ত সংলগ্ন নজরান এলাকায় হামলা চালিয়ে সহস্রাধিক সৌদি সেনাকে আটকের দাবি করে হুথি বিদ্রোহীরা। সেনাদের পাশাপাশি শতাধিক সৌদি সামরিক যানও জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। তবে ওই ঘটনায় আটক সৌদি সেনাদের মুক্তির জন্য এ বন্দিবিনিময়ের কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে সংবাদিক জামাল খাশোগির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন নিয়ে সমালোচনার মাত্রা বাড়তে থাকে। কদিন আগেই রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে রিয়াদের কাছে সমরাস্ত্র বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পশ্চিমা দুনিয়াতেও এ যুদ্ধে রিয়াদের ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা রয়েছে।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় দেশটির ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন ক্ষমতাচ্যুত হাদি। হুথির ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামের সামরিক আগ্রাসন শুরু করে সৌদি-আমিরাতের সামরিক জোট। স্কুল, বাজার ও হাসপাতাল, জানাজার নামাজসহ বিভিন্ন স্থানে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত হয় লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ। আহত হয় আরও অনেকে। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায় ইয়েমেন।