ইরানি দূতাবাসে ইরাকের বিক্ষোভকারীদের আগুন

ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজাফে ইরানি দূতাবাসে ঢুকে সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। এসময় পুলিশের গুলিতে অন্তত এক বিক্ষোভকারী ও অপর ৩৫ জন আহত হয়েছে। ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে বুধবার এই ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই ঘটনাই ইরাকি বিক্ষোভকারীদের ইরান বিরোধী মনোভাবের সবচেয়ে জোরালো প্রকাশ।noname

কর্মসংস্থানের সংকট,নিম্নমানের সরকারি পরিষেবা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত ১ সেপ্টেম্বর বাগদাদের রাজপথে নামে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরানসহ আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের প্রভাব নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে তাদের। নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের অনুসারী না হয়েও অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আওয়াজ নিয়ে রাজপথে নামে বিক্ষোভকারীরা।  নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে এই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভে প্রায় সাড়ে তিনশো মানুষ নিহত হয়েছে।

মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ইরানি দূতাবাসে ঢুকে পড়া ঠেকাতে তাজা গুলি ব্যবহার করে পুলিশ। এতে এক ব্যক্তি নিহত ও অপর ৩৫ জন আহত হয়। তা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে ইরানের পতাকা নামিয়ে ইরাকের পতাকা উড়িয়ে দেয়। দূতাবাস কর্মীরা পিছনের দরজা ব্যবহার করে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ জামজুম বলেন, শিয়া মতালম্বীদের পবিত্র শহর নাজাফের এই ঘটনা উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিষ্কার ইঙ্গিত। এতে সংকট আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।