ইরাকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে কেবল নাসিরিয়ায় মারা গেছে অন্তত ২০ জন। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সেখানে দুইটি সেতু অবরুদ্ধ করে রাখা বিক্ষোভকারীদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে তাদের ওপর গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এর আগে বুধবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে নাজাফে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেট পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ ইরাকিরা। গত সেপ্টেম্বরে এ আন্দোলন শুরুর পর একদিনে নিহতের সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ।
কর্মসংস্থানের সংকট, নিম্নমানের সরকারি পরিষেবা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত ১ সেপ্টেম্বর বাগদাদের রাজপথে নামে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের অনুসারী না হয়েও অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আওয়াজ নিয়ে রাজপথে নামে তারা। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভে অন্তত ৩৫০ জন নিহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইরাকের সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ইরানের আজ্ঞাবহ।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নাজাফে হামলাটি ইরাকে ইরান বিরোধিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দক্ষিণাঞ্চলীয় এই শহরটি শিয়াদের ঘাঁটি বলে পরিচিত। এখানে বেশ কিছু শিয়া মাজার রয়েছে। ইরাকের সেক্যুলার ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে। তবে এজন্য কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়নি। পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত নাজাফে কারফিউ জারি করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা নাসিরিয়াতে একটি সেতুতে জমায়েত হলে নিরাপত্তাবাহিনী গুলি করে। এতে ২০ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আর নাজাফে তিন জন ও বাগদাদে চার জন নিহত হয়।
ইরাকের সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, আন্দোলন রুখতে সামরিক ‘সংকট সেল’ স্থাপন করা হয়েছে। একজন সেনা কমান্ডার জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি জরুরি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। নাসিরিয়ার আন্দোলন ঠেকাতে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়েছে।
মেডিক্যাল ও নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, নারিসিয়ায় দুইটি সেতু অবরুদ্ধ করে রাখা বিক্ষোভকারীদের সরাতে গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে সেনারা। এর আগে বিক্ষোভকারী সেখানকার একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেয়।
বুধবার রাতে ইরানি কনস্যুলেটে আগুন দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সেখানে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। মেডিক্যাল সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিন জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়।