ইরাকের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের হুমকি

ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত প্রার্থী নিয়ে ইরানপন্থী বিনা জোটের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) এই হুমকি দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বসরা প্রদেশের গভর্নর আসাদ আল এইদানিকে মনোনয়ন দিয়েছে জোটটি। তবে প্রেসিডেন্টের দাবি বিক্ষোভকারীরা মনোনীত প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করতে হলে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ

দেশ জুড়ে বিক্ষোভের মুখে গত নভেম্বরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদী পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দেশটির সংবিধবান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় জোট কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করলে তার ব্যাপারে আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই প্রেসিডেন্টের। আর পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় জোট হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী পদে বসরা প্রদেশের গভর্নরকে মনোনয়ন দিয়েছে ইরানপন্থী হিসেবে পরিচিত বিনা জোট।

প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিনা জোট যাকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব দিয়েছে তাকে বিক্ষোভকারীরা প্রত্যাখ্যান করছে। আর সংবিধান যেহেতু আমাকে ওই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করার অনুমতি দেয়নি সেহেতু তাকে নিয়োগ দেওয়ার চেয়ে আমি বরং পদত্যাগ করবো।

অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান ও দুর্নীতি দমনের দাবিতে গত ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের পর ইরাকের রাজনৈতিক দলগুলো এখনও পর্যন্ত নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। আর এ পরিস্থিতির মধ্যেই  আসাদকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ইরানপন্থীরা। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা ইরানের প্রভাবমুক্ত প্রশাসন চায়। ফলে এই প্রার্থীকে মানতে নারাজ তারা।

সম্প্রতি বাগদাদের দুই মিত্র ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরাকের রাজনীতি ও সামরিক ক্ষেত্রে এই দুই দেশেরই প্রভাব রয়েছে। ফলে বহু ইরাকি নাগরিকের আশঙ্কা, আঞ্চলিক প্রভাবের জন্য বাগদাদ যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিরোধের মাঝে পড়ে যেতে পারে তাদের দেশ। সম্প্রতি ইরাকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে ইরানি কনস্যুলেটেও হামলা হয়েছে। একারণে মূলত প্রেসিডেন্ট তাকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পদত্যাগের হুমকি দিলেন।