অনুমোদনের সুযোগ রেখে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করলো সৌদি আরব

সৌদি আরবে ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে বন্ধের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। দেশটির আইনমন্ত্রী ড. ওয়াহিদ বিন মোহাম্মদ আল সামানি সম্প্রতি শিশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী নিম্ন আদালত ও বিবাহ কর্মকর্তাদের প্রতি এমন নির্দেশনা জারি করেছেন। এতে শর্তসাপেক্ষে বাল্যবিবাহের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে শিশুর সার্বিক দিক বিবেচনা করে এই অনুমোদন কেবল বিশেষ আদালত দিতে পারবে। সংবাদমাধ্যম দ্য উইক এই তথ্য দিয়েছে।

child-marriage-representational-Shutterstock

সৌদি আরবের যুবরাজ হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমান নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি দেশটিতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কার কার্যক্রমে হাত দিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। মাঠে পুরুষের সঙ্গে বসে খেলা দেখা, সিনেমা দেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া, চাকরিতে যোগদান, এমনকি অস্ত্রোপচার করার জন্যও আগে নারীদের পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হতো। সেই বিধিও সম্প্রতি রদ করা হয়েছে। এবার বাল্যবিবাহ ঠেকাতেও পদক্ষেপ নিলো রিয়াদ।

২৩ ডিসেম্বর জারি করা সৌদি আরবের বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে বিয়ে দেওয়া যাবে না। তবে সার্বিকভাবে ১৮ এর নিচের শিশুর বিবাহ বাতিল করা হয়নি। এতে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী কোন শিশুর শারীরিক ও বাস্তবতা বিবেচনায় ক্ষতি হবে না প্রতীয়মান হলে কেবল তখনই বিয়ের অনুমতি দিতে পারবে বিশেষ আদালত। এসব ক্ষেত্রে নিম্ন আদালত বা বিবাহ কর্মকর্তাদের অনুমোদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ১৫ বছরের নিচের শিশুর বিবাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরবের সুরা কাউন্সিল।

দেশটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সর্বমহলে প্রশংসিত হলে এটা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ‘গার্লস নট ব্রাইডস’ নামের একটি আন্তর্জাতিক এনজিও। ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার বিধান থাকায় এর অপব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা সংস্থাটির। ওই সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, যদি কম বয়সী মেয়েদের মা-বাবারা প্ররোচিত করে আদালতকে রাজি করাতে পারে সেক্ষেত্রে তাদের জোরপূর্বক বিয়ের সুযোগ থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইন না মানলে তার বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।