ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলাকে 'সন্ত্রাসবাদ' আখ্যা ইরানের

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলাকে 'সন্ত্রাসবাদ' আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি বলেছেন, ইরাকের হাশ্‌দ আশ-শাবির একটি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা যে বিমান হামলা চালিয়েছে, তা সন্ত্রাসবাদের সুস্পষ্ট উদাহরণ। গত রবিবার (২৯ ডিসেম্বর)  ওই সংগঠনের ঘাঁটিতে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা। এতে ইরানের প্রভাবশালী কুদস ফোর্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাতাইব হিজবুল্লাহর অন্তত ২৫ যোদ্ধা নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। 

8d95794a4f58a57f181ed58ca4c82d27-5e09bc5607757

গত দুই মাসে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ১১টি রকেট হামলা হয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার সকালে ইরাকের কিরকুরে হামলায় এক মার্কিন ঠিকাদার নিহত ও অপর চারজন আহত হয়। সে দেশের কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় ইরানের প্রভাবশালী কুদস ফোর্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত যোদ্ধারা জড়িত। এরপরই ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানঘনিষ্ঠ আধাসামরিক বাহিনী হাশ্‌দ আশ-শাবির পাঁচটি ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

রবিবারের মার্কিন বিমান হামলা প্রসঙ্গে সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি বলেন, ‘এই হামলার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো যে, আমেরিকা উগ্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যে লড়াইয়ের দাবি করে তা মিথ্যা। বরং যারা আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র দাবি করেছেন, হাশ্‌দ আশ-শাবি হচ্ছে ইরাকের সরকারপন্থী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যারা সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা করে আসছে। তিনি বলেন, ‘এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে, তারা সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন দেয় এবং একটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অসম্মান করে। এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের দায় ও পরিণতি অবশ্যই তাদেরকে ভোগ করতে হবে।’

সোমবার প্রকাশিত হাশ্‌দ আশ-শাবির এক বিবৃতিতে মার্কিন সেনাদের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে ইরানঘনিষ্ঠ শিয়া মুসলমানদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় কাতাইব হিজবুল্লাহ। ওয়াশিংটনের দাবি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ওপর হামলার ক্ষেত্রে গোষ্ঠীটি ইরানের কুদস বাহিনীর কাছ থেকে নিয়মিত সহায়তা পেয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাতেও রয়েছে গোষ্ঠীটি।