ভারতের উগ্রপন্থী হিন্দুদের ভেঙ্গে দেওয়া ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জন্য বিকল্প জায়গা বাছাই করা হয়েছে। অযোধ্যার মির্জাপুর, শামসুদ্দিনপুর ও চাঁদপুরে এ জায়গা বাছাই করেছে উত্তর প্রদেশের রাজ্য সরকার। প্রতিটি জায়গাই পাঁচ একর এলাকাজুড়ে। এখন সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে বাছাইকৃত জায়গাগুলোর মধ্যেই একটিকে মসজিদ নির্মাণের জন্য বেছে নিতে হবে। তবে তারা আদৌ এ জমি নেবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। উত্তর প্রদেশ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল।
২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মামলার রায় দেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে ভেঙে ফেলা মসজিদটির জায়গায় মন্দির নির্মাণের আদেশ দেন আদালত। এছাড়া উত্তর প্রদেশের রাজ্য সরকারকে বিকল্প মসজিদ নির্মাণের জন্য তিন মাসের মধ্যে অযোধ্যায় পৃথক পাঁচ একর জায়গা দিতে বলা হয়। সে অনুযায়ী সম্ভাব্য জায়গা বাছাই করেছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভেঙে ফেলা বাবরি মসজিদের জায়গায় মন্দির নির্মাণের আদেশ দেওয়ার পর মামলার অন্যতম পক্ষ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা রিভিউ পিটিশনের পথে হাঁটবে না। ওই মামলাকে ‘ক্লোজড চ্যাপটার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ওয়াকফ বোর্ড।
কিছুদিন পর অবশ্য সংশ্লিষ্ট আরেক পক্ষ মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড জানায়, এমন অনেকে আছেন যারা হয়তো মামলার অংশীদার ছিলেন না, কিন্তু তারা নানাভাবে এই মামলায় সাহায্য করেছেন। তারা চাইছেন রিভিউ পিটিশন হোক।
ভারতের মুসলিমদের একটি প্রভাবশালী সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের বিরোধী তথা অখণ্ড ভারতের সমর্থক এ দলটির নেতা আরশাদ মাদানি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমরা জানি, পিটিশন দাখিল করলেই তা খারিজ করে দেওয়া হবে। কিন্তু তারপরও আমরা পিটিশন করবো। এটা আমাদের অধিকার।’ শেষ পর্যন্ত ওই পিটিশন খারিজ করে দেয় ভারতের আদালত।