বাদ্যযন্ত্রের বাক্সে করে লেবাননে পালান নিশানের সাবেক প্রধান

বাদ্যযন্ত্রের বাক্সের মধ্যে লুকিয়ে লেবাননে পালিয়েছেন জাপানের গাড়ি নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান নিশানের সাবেক প্রধান কার্লোস গোয়েন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আর্থিক অসদাচরণের অভিযোগে বিচারের মুখে থাকা গোয়েনকে হলিউড ছবির মতো করে এই পালানোর নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন তার স্ত্রী। তাকে সহায়তা দিয়েছে একটি গ্রেগরিয়ান গানের দল ও বিশেষ বাহিনীর সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তারা।বৈরুতে গোয়েনের বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন লেবাননের এক পুলিশ কর্মকর্তা

লেবাননি বংশদ্ভুত কার্লোস গোয়েনের জন্ম ব্রাজিলে। এরপর তার ছোটবেলা কাটে লেবাননের বৈরুতে। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্স ও কর্মক্ষেত্র জাপানে বসবাস করেন তিনি। এর ফলে লেবানন, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও জাপানের পাসপোর্ট রয়েছে কার্লোস গোয়েনের। ২০১৮ সালে জাপানে গ্রেফতার হওয়ার আগে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরে কঠোর শর্তের অধীনে জামিন পেয়ে টোকিওতে নিজ বাসভবনে ছিলেন তিনি। সেখানে গানের দলটি আসলে পালানোর পরিকল্পনা করেন কার্লোস গোয়েন।

টোকিওতে গোয়েনের বাসভবনে গানের দলের অনুষ্ঠান শেষে শিল্পীরা যন্ত্রপাতি গোছানো শুরু করেন। তখন পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির চেয়ে কম উচ্চতার গোয়েন একটি বড় আকৃতির বাক্সের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেটি স্থানীয় এক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে একটি প্রাইভেট বিমানে করে তুরস্কের ইস্তানবুল পৌছান তিনি। পরে ইস্তানবুল থেকে সোমবার ভোরে লেবাননে পৌছান নিশানের সাবেক প্রধান। বিমানযাত্রার গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডারের তথ্য বলছে, জাপানের ভোর চারটা ১৬ মিনিটে বিমানটি বৈরুতের রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অদৃশ্য হয়ে যায়।

লেবাননের টেলিভিশন উপস্থাপক রিকার্ডো কারাম কার্লোস গোয়েনের বৈরুতে ফেরার খবর নিশ্চিত করেছেন। গোয়েনের এই পারিবারিক বন্ধু বলেন, ‘সে এখন বাড়িতে। এটা বড় ধরনের অ্যাডভেঞ্চার ছিল।’

জাপানে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারিতে থাকার পরও কার্লোস গোয়েন পালিয়ে যাওয়ায় অবাক হয়েছে জাপানি কর্তৃপক্ষ ও তার আইনজীবীরা।

সোমবার ভোরে গোয়েনের পালানোর খবর প্রকাশের সময় বৈরুতে এক অনুষ্ঠানে ছিলেন লেবাননে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাতাহিরো ইয়ামাগুচি। ওই অনুষ্ঠান থেকেই স্থানীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেন, জাপান সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। টোকিওতে গোয়েনের আইনজীবী জুনিচিরো হিরোনাকা বলেছেন, টেলিভিশনে পালানো খবর দেখে বিস্মিত হয়েছি। তার মক্কেলের তিনটি পাসপোর্ট নিজের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে লেবানন বা ফ্রান্সের নতুন পাসপোর্ট নিয়ে পালিয়েছেন।

গোয়েনের আইনজীবী জুনিচিরো হিরোনাকা বলেন, বড় কোনও সংস্থার সহায়তা ছাড়া তার পক্ষে পালানো কঠিন। তিনি বলেন, আমি তাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে তার বক্তব্য শুনে আমার মনে হয়েছে তিনি জাপানের আদালতকে বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, এটা সত্য হলে ধরে নিতে হবে যে তিনি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড ক্ষমার অযোগ্য এবং জাপানের বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

গোয়েনের দেশত্যাগের কোনও রেকর্ড জাপানের অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে নেই। মঙ্গলবার দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, গোয়েন বলে মনে হওয়া ভিন্ন নামের এক ব্যক্তিতে বৈরুত বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেখেছেন লেবাননের কর্মকর্তারা। লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোয়েন ফরামি পাসপোর্ট এবং লেবাননের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে স্বাভাবিক নিরাপত্তা মেনে বৈধভাবে তাদের দেশে প্রবেশ করেছেন।