মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রশক্তি সৌদি আরব। অঞ্চলগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরেই শত্রুভাবাপন্ন ইরান ও সৌদি আরব। সঙ্গত কারণেই কাসিম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাদের অবস্থান তেহরানের বিপরীতে।
শুক্রবার ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ৬২ বছর বয়সী ওই জেনারেল মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিকদের ওপর শিগগিরই মারাত্মক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে সৌদি আরবের প্রভাবশালী পত্রিকা আরব নিউজ ঘটনার পর প্রথম পাতায় সোলাইমানির ছবি সম্বলিত একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। যার শিরোনাম ছিল ‘আর কাউকে হত্যা করতে পারবে না সে (সোলাইমানি)’।
ইরানের আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধির প্রধান কারিগর জেনারেল কাসেম। বিগত বছরগুলোতে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন কাসেম। গত ১৫ বছর ধরে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কৌশলী হিসেবে তৈরি হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উপস্থিতি সুসংহত করতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ইরানের আধিপত্য বিস্তার ও সৌদি আরবের প্রভাব কমিয়ে আনার কারিগর হওয়ায় তাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখেনি সৌদি সরকার।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরবের একজন কূটনীতিক উভয়পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান বলে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর এক টুইটে বলেন, ‘এ ঘটনায় সৌদি আরব উত্তেজনা কমিয়ে আনার বিষয়েই গুরুত্ব দিচ্ছে।’