ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: উত্তেজনা কমবে নাকি আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হবে?

ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের চিত্র এখনও পরিষ্কার হয়নি। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নও পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। তবে তেহরান দাবি করেছে, এই হামলায় অন্তত ৮০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই হামলা কি দুই বৈরি দেশের মধ্যে যুদ্ধের সূচনা করলো, নাকি এই হামলায় কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনের পথ তৈরি হলো?

4bv5b11ad52f351km6z_800C450

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের বাগদাদে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। এই হামলার ‘মারাত্মক প্রতিশোধ’ হিসেবে বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ইরাকের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান।

বিশ্লেষকরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াগুলো বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করছেন পরিস্থিতি কোনও দিকে গড়াতে পারে।

ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন,  আমরা আমেরিকার ‘মুখে চপেটাঘাত’ করেছি। আর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবেদ জারিফ ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে যা বলেছেন সেদিকেই গুরুত্ব দিয়ে নজর দিচ্ছে বিশ্ব।

এক টুইটবার্তায় জারিফ লিখেছেন, ইরান জাতিসংঘ সনদের ৫১ ধারা অনুসরণ করে তার আত্মরক্ষায় ‘যথাযথ জবাব দিয়েছে এবং জবাব দেওয়া শেষ করেছে। আমরা পরিস্থিতিকে আর উত্তপ্ত করতে চাইনা বা যুদ্ধ চাইনা; তবে আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষা করবো।’

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত কয়েকদিন ইরানকে লক্ষ্য করে একের পর এক হুমকি দিলেও ইরানের ওই হামলার পর এখন পর্যন্ত তার দিক থেকে তেমন কোনও প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া শোনা যায়নি।

এক টুইটবার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘ঠিক আছে। ইরাকে দুইটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির হিসাব চলছে...এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে।’

বাগদাদ থেকে বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন বলছেন, জারিফের টুইট দেখে মনে হচ্ছে তিনি উত্তেজনার প্রশমন চাইছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের হামলা শেষ হয়েছে এবং ইরান এটা করেছে আন্তর্জাতিক আইনের আওতার মধ্যে থেকে।’

বোয়েন মনে করছেন, ইরান সম্ভবত এখন বলটি যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে ঠেলে দিতে চাইছে, কারণ ইরান জানে দুই দেশের মধ্যে সামরিক শক্তিতে তারা কতটা পেছনে।

বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদদাতা জনাথন মার্কাসও মনে করছেন, জেনারেল সোলাইমানির মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন জেনারেলের হত্যাকাণ্ডের বিবেচনায় ইরানের এই 'বদলা' খুবই সাদামাটা। তিনি বলছেন, যে সময়ে এই হামলা চালানো হয়েছে, বোঝাই যায় তার লক্ষ্য ছিল প্রাণহানি এড়ানো।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইরানের ঠেলে দেওয়া বলটি কীভাবে খেলবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এখন পর্যন্ত যে কথা-বার্তা তেহরান এবং ওয়াশিংটন থেকে শোনা যাচ্ছে তা দেখে বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্লেষক হুমায়ুন কবির মনে করছেন, দুই দেশই বড় কোনও সংঘাতে জড়াতে চাইছেনা। তিনি বলেছেন, ‘এমনকি যদি কিছু প্রাণহানিও হয়ে থাকে, তারপরও আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্র হজম করে নেবে।’

কবির বলছেন, এখন মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে ট্রাম্প বা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যেসব মিত্র দেশ রয়েছে তারা কেউই চায়না। তথ্য: বিবিসি বাংলা