যুক্তরাষ্ট্রে শনিবার করোনা ভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার কর্মকর্তারা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের বাসিন্দা ৭০ বছরের ওই ব্যক্তি সম্প্রতি ইরান সফর করেছিলেন। এর আগে একই দিন আক্রান্ত ৫০ বছরের আরও এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়।
রবিবার সন্ধ্যায় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানী ওয়াশিংটনে নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে।
চীনের পর করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইরানে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর সরকারি হিসাবেই আক্রান্ত হয়েছে ৯৭৮ জন। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন সম্প্রতি ইরান সফরে গিয়েছিলেন। যার মধ্যে শনিবার একজনের মৃত্যু হয়েছে। সতর্কতার অংশ হিসেবে ইরান ভ্রমণে বিধিনিষেধের পরিধি বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সরকারি হিসাবে চীনে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই তিন হাজার ছাড়িয়েছে। যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, চীনে নতুন সংক্রমণ কমে আসতে শুরু করেছে। তবে অন্যান্য দেশে বেড়ে চলেছে এর প্রকোপ। এর মধ্যে ইরানের অনেক এলাকা এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। দেশটির সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে কয়েকটি দেশ। সচল এলাকাগুলোতে আতঙ্কিত মানুষ মাস্ক পরে চলাফেরা করছেন।
রাজধানী তেহরানে কাজের সময়ও অপেক্ষাকৃত কম ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১০টি প্রদেশে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাস্ক বা দস্তানার মতো প্রতিরোধ সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় জনমনে অসন্তোষ রয়েছে। ইরানের এক শ্রমিক বলেন, ‘সব জায়গায় মাস্কের দাম বেড়েছে। আমার মতো একজন সাধারণ শ্রমিক কীভাবে তা কিনি বলুন তো? আমার পরিবারে তো আমি একা নই। সবার জন্যই মাস্ক কিনতে হবে।’
দক্ষিণ কোরিয়াতে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রাজধানী ছাড়িয়ে এটি ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশে। অব্যাহত আছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ইতালির কার্নিভাল (উৎসব) বাতিল করা হয়েছে। বেশ কিছু শহরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিখ্যাত পোশাক নকশাকার জর্জিও আরমানি লাইভ ফ্যাশন শো বাতিল করে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানে ব্যাপক হারে লোকজন সংক্রমিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সহজে যখন সংক্রমণ হয় তখন মূলত মহামারি আকার ধারণ করে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে দরপতনের ঘটনা ঘটছে। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।