ইদলিবের গুরুত্বপূর্ণ শহরে সিরীয় বাহিনীর প্রবেশ, জোরালো হয়েছে তুর্কি অভিযান

সিরীয় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি ইদলিবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরে প্রবেশ করেছে প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের বাহিনী। সোমবার (২ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, তুরস্ক সমর্থিত বিদ্রোহীদের কাছ থেকে সারাকেব শহরের দখল নিয়েছে সেনা সদস্যরা। এদিকে ওই অঞ্চলে অভিযান জোরালো করেছে তুরস্ক।noname

সম্প্রতি রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী ইদলিবে বিমান হামলা চালিয়ে ৩৩ তুর্কি সেনাকে হত্যা করে। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে আসাদ বাহিনীর দুই সুখোই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে তুরস্ক। ড্রোন হামলা চালিয়ে আসাদ বাহিনীর তিন ঊর্ধ্বতন জেনারেলসহ অন্তত ২৬ সেনাকে হত্যা করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত তুরস্কের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকায় শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত দশ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, নয় বছর ধরে চলা সিরীয় গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে এই সংঘাত।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি। বলেন, ‘সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আমি বৃহস্পতিবার মস্কো যাচ্ছি। আশা করছি তিনি (পুতিন) সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন, যেমন যুদ্ধবিরতি। এছাড়া এ বিষয়ে একটি সমাধান খুঁজে পাবো বলেও আশা করছি’।

এদিকে সোমবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সারাকেব শহরে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে আসাদ বাহিনী। তবে শহরের পশ্চিমাংশে এখনও লড়াই চলছে বলে দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস মনিটর গ্রুপ জানিয়েছে, ওই অঞ্চল পুনর্দখলের চেষ্টা করছে বিদ্রোহীরা।

সারাকেব শহরটির একদিকে আসাদ বাহিনী নিয়ন্ত্রিত আলেপ্পো ও অপর দিকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটির নিয়ন্ত্রণ গত এক মাসেরও কম সময়ে দুইবার বদল হয়েছে।

বিদ্রোহীদের দাবি, সারাকেবে সিরীয় সেনা অবস্থানে হামলা চালিয়েছে তুর্কি ড্রোন। রবিবার তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার বলেছেন, ‘রাশিয়ার মুখোমুখি হওয়া আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা কেবল সিরীয় শাসকের নির্বিচার হত্যা, উগ্রবাদী গ্রুপের তৎপরতা এবং বেসামরিক মানুষের বাস্তুচ্যুতি থামাতে চাই’।

সোমবার তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, তুরস্কের বাহিনী এখন পর্যন্ত আটটি হেলিকপ্টার, বেশ কয়েকটি ট্যাংক এবং পাঁচটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। এদিকে সিরিয়ায় তুর্কি বিমানের নিরাপত্তা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে রাশিয়া।