ইরাকের বাশিকা ঘাঁটি ছাড়ছে তুর্কি সেনারা!

Turkish troops leave Bashiqa campইরাকের বাশিকা প্রশিক্ষণ ঘাঁটি থেকে বেশকিছু তুর্কি সেনাকে সরিয়ে নিয়েছে আঙ্কারা। মসুলের নিকটবর্তী এ ঘাঁটি থেকে ১০ থেকে ১২টি সাঁজোয়া যানে করে কিছু সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব সেনাদের উত্তর ইরাকের অন্যত্র মোতায়েন করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুর্কি সেনাসূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। তবে ঠিক কত সংখ্যক সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা কত সংখ্যক সেনা এখনও সেখানে রয়েছে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
গত ৪ ডিসেম্বর বাগদাদ অভিযোগ করে, মসুলে তুর্কি সেনা মোতায়েন ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। বিষয়টি নিয়ে তুরস্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইরাক। এ নিয়ে তারা জাতিসংঘেও অভিযোগ করে।
তুরস্কে রুশ বিমান ভূপাতিত করার পর থেকেই মূলত তুর্কি সরকারের সঙ্গে বাগদাদের শীতল সম্পর্ক দৃশ্যমান হয়। ইরাকে আইএস-বিরোধী লড়াইয়ে মোতায়েনকৃত তুর্কি সেনাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি।
মসুলে তুর্কি সেনা মোতায়েনের বিষয়ে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু। চিঠিতে তিনি মসুলে মোতায়েন তুর্কি সেনাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ইরাকি নেতাকে অবহিত করেন।
আহমেদ দাভুতোগলু চিঠিতে লিখেছেন, ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বিনষ্ট হয় এমন কোনও পদক্ষেপ নেবে না তুরস্ক। বরং দায়েশের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাগদাদকে সাহায্য করতে আঙ্কারা প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর ধরে আইএস বা দায়েশের দখলে রয়েছে মসুল। সেখানে আইএসের বিরুদ্ধে লড়ছেন ইরাকের কুর্দি যোদ্ধারা। এই কুর্দি যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য মসুলের বাশিকা শহরের কাছে ১৫০ জন সেনা মোতায়েন করেছে তুরস্ক। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত এলাকাগুলোতে কুর্দি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তুরস্কের সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু নিজের সীমান্তে সিরিয়ার কুর্দিদের সাথে বৈরী সম্পর্ক রয়েছে দেশটির। সূত্র: আনাদোলু।

/এমপি/