করোনা মহামারি খাদ্য সরবরাহের হুমকি হতে পারে, জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে বিশ্ব জুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার হুমকি তৈরি হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর বহু দেশ লকডাউনে থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার হুমকি তৈর হয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। গত মাসে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক প্রতিবেদনে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন’র এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।noname

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে করোনাভাইরাস। বিশ্ব জুড়ে ইতোমধ্যে এই ভাইরাসটি ১৬ লাখেরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করেছে। আর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষের। ভাইরাসটিকে মহামারি আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এফএও’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই মুহূর্তে সুপারমার্কেটের তাকগুলো পূর্ণ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘায়িত মহামারি সংকট দ্রুত খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট কৃষক, কৃষি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত প্লান্ট, পরিবহন, খুচরা বিক্রেতা এবং আরও বহু কিছুর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।’    

সিএনএন’র খবরে বলা হয়েছে, অন্তত এখন পর্যন্ত এই ইস্যুটি খাবারের সংকট নিয়ে নয়, বরং ভাইরাস মোকাবিলায় দুনিয়া জুড়ে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সংক্রান্ত। সীমান্ত বন্ধ, চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ ও আকাশ পরিবহনে বাধার কারণে খাদ্য উৎপাদন ও আন্তর্জাতিকভাবে তা পরিবহনের কাজ কঠিন করে তুলেছে। এতে করে বিভিন্ন দেশের সামান্য বিকল্প কিছু খাবারের উৎসও হুমকির মুখে পড়েছে।

গত ২৫ মার্চ জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার তরফে বলা হয়, মহামারির কারণে এয়ারলাইন্সগুলো হাজার হাজার বিমান ফেলে রেখেছে আর বন্ধ রয়েছে শত শত বন্দর। ফলে আটকা পড়ে আছে খাবার, ওষুধ ও অন্য পণ্য বোঝাই শত শত কন্টেইনার।

গত মাসে জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা কমিটির (সিএফএস) এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, বিশ্ব জুড়ে খাদ্য সরবরাহের ওপর অনিশ্চয়তা জোরালো হওয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হবে দরিদ্রতম মানুষ।

এমনকি সম্ভাব্য খাদ্য বিপর্যয় নিয়ে ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা। নেসলে, ইউনিলিভারের মতো বিভিন্ন কোম্পানি, রাজনীতিবিদ, ও বিজ্ঞানীদের তরফে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘কোভিড মহামারি বিশ্ব জুড়ে খাদ্য ও মানবিক সংকটে পরিণত হওয়ার আগে সরকার, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্রুত এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’