করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার একদিনে অন্তত দুই হাজার ২২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটি দেশটিতে একদিনে এ ভাইরাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। নিজস্ব ট্যালির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
এর আগে দেশটিতে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড তৈরি হয়েছিল গত শুক্রবার। সেদিন অন্তত দুই হাজার ৬৯ জনের মৃত্যু হয়।
করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছয় লাখ ৯ হাজার ৪২২। এ সংখ্যা দুনিয়ার অন্য যে কোনও দেশের চেয়ে ঢের বেশি। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্পেনে এ সংখ্যা এক লাখ ৭৪ হাজার ৬০। অর্থাৎ স্পেনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে ২৬ হাজার ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইতালিতে এ সংখ্যা ২১ হাজার ৬৭।
হোয়াইট হাউসের করোনা টাস্কফোর্সের কর্মকর্তা ডা. ডেবোরা ব্রিক্স সম্প্রতি আশঙ্কা জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এক লাখ মৃত্যু কিছুতেই এড়াতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। আর সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেনে চলা না হলে মৃতের সংখ্যা ২২ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে বিবাদ ও দ্বন্দ্বের আভাস মিলছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। কয়েকটি পদত্যাগ ও বরখাস্তের ঘটনাও দেখা গেছে।
হোয়াইট হাউসের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা করোনা নিয়ে জানুয়ারি মাসেই সতর্কতামূলক চিঠি দিলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি সেটি দেখেননি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন থেকে যেভাবে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আসছে তাতে করোনা মহামারি মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসের বর্তমান ব্যবস্থাপনা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
করোনাভাইরাসজনিত মহামারি পরিস্থিতির মধ্যে কাজকর্ম বন্ধ থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমজীবী মানুষেরা। নতুন করে অনেক মানুষ এখন সরকারি খাদ্য সহায়তা চেয়ে আবেদন করছেন। আপাতত তাদের মাঝে বিনামূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। সেসব স্থানে লোকজনের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করছে তারা।