উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ‘গুরুতর অসুস্থ’ বলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তবে উত্তর কোরীয় নেতার অসুস্থতার খবরকে গুজব বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সিউলের প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে বলা হয়েছে, হার্টের অস্ত্রোপচারের পর কিম যে মারাত্মক অসুস্থ—এমন খবর শ্রেফ গুজব। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কিমের অসুস্থতার তথ্য খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুংয়ের জন্মবার্ষিকী প্রতিবছর ঘটা করে পালন করা হলেও এবার ১৫ এপ্রিলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না তার নাতি ও বর্তমান নেতা কিম জং উন। এরপরই এই নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত দুদিন ধরে ছড়িয়ে পড়ে অসুস্থতার নানা খবর। কোনও খবরে বলা হচ্ছে, ‘কিম ভয়ানক অসুস্থ’, কেউ বলছেন তার ‘ব্রেন ডেড’ হয়ে গেছে কিংবা ‘অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছেন’ তিনি। যদিও এসব খবরের সত্যতা যাচাই করা অসম্ভব।
তবে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি এনকে’ জানায়, ১২ এপ্রিল কিম জং উনের হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছে। অতিরিক্ত ধূমপান, মুটিয়ে যাওয়া এবং অধিক পরিশ্রমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার হৃদযন্ত্রে এ অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি এখন হিয়াংসান কাউন্টিতে তার ভিলায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।
আগের দিন এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কিমের অসুস্থতার খবর বিশ্বাস্য হলেও তা কতটা ‘গুরুতর’ সেটি বোঝা কঠিন। দেশটির সিআইএ’র সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রধান ব্রুস ক্লিংনার সিএনএন’কে বলেছিলেন, ‘কিমের স্বাস্থ্য (ধূমপান, হৃদযন্ত্র এবং মস্তিষ্ক) সম্পর্কে বেশ কয়েকটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তাকে যদি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ে থাকে, এতেই বোঝা যায় কেন তিনি ১৫ এপ্রিলের গুরুত্বপূর্ণ উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কিম জং উন বা তার পিতা সম্পর্কে বেশ কয়েকটি মিথ্যা স্বাস্থ্য গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে।’
এসব খবর নাকচ করে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ভবন ব্লু হাউজ থেকে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার ৩৬ বছর বয়সী নেতা ভয়ানক অসুস্থ বলা হলেও দেশটির পক্ষ থেকে এমন কোনও আলামত দেখা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিলের অনুষ্ঠানে কিম অনুপস্থিত থাকলেও তিন দিন আগে কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে বৈঠক করতে দেখা গেছে। বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছিল দেশটির সরকারি গণমাধ্যম কেসিএনএ।
উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা ভীষণ কঠিন। এটা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে যেসব তথ্য তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে উত্তর কোরিয়া।