করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানুষের সংখ্যা এই বছর দ্বিগুণ বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই বছর ১৩ কোটি মানুষ নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে। ইতোমধ্যে এই সংকটে মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ। পর্যটন রাজস্ব হারানো, প্রবাসীদের আয় পাঠানো কমে যাওয়া এবং ভ্রমণ ও মহামারি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিনিষেধের কারণে আয় কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে এই মহামারিতে। বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪১। ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে পৃথিবীর বহু দেশে আরোপ করা হয়েছে কঠোর লকডাউন।
মঙ্গলবার জেনেভায় প্রকাশ করা ডব্লিউএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই পরিস্থিতিতে ডব্লিউএফপি’র নিজস্ব কর্মসূচিসহ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচি বিশ্বের প্রায় দশ কোটি মানুষের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে থাকে।’ এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং গবেষণা, মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ পরিচালক আরিফ হুসেইন বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঝুঁকির মধ্যে থাকা লাখ লাখ মানুষের জন্য কোভিড-১৯ সম্ভবত বিপর্যয়কর হতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দৈনিক মজুরি পেলে খাওয়া সম্ভব হয় এমন লাখ লাখ মানুষের জন্য এই মহামারি মারাত্মক বিপর্যয়কর। লকডাউন আর বিশ্ব জুড়ের চলতে থাকা মন্দায় ইতোমধ্যে তাদের সামান্য সঞ্চয় শেষ হয়েছে। বিশ্ব জুড়ে এই বিপর্যয় সামাল দিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
ডব্লিউএফপি বলছে, বর্তমানে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষগুলোর বেশিরভাগই নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশগুলোর বাসিন্দা। খাদ্য সংকট বিষয়ক বৈশ্বিক রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৯ সালে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা সবচেয়ে বেশি মানুষ সংঘাত কবলিত দেশের। এদের সংখ্যা প্রায় সাত কোটি ৭০ লাখ। এর পরেই রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সংকটে পড়া মানুষ। তাদের পরিমাণ তিন কোটি ৪০ লাখ। এছাড়া অর্থনৈতিক সংকটে পড়া আরও দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে।