হত্যার হুমকি পাচ্ছেন ‘উহান ডায়েরি’র লেখক

সারা বিশ্ব থেকে উহান শহর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর প্রখ্যাত চীনা লেখক ফ্যাং ফ্যাং নিজ শহরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে অনলাইনে লেখা শুরু করেন অনলাইন ডায়েরি। লাখ লাখ পাঠক আকৃষ্ট করা সেই ডায়েরি এখন বেশ কয়েকটি বিদেশি ভাষায় প্রকাশ হতে যাচ্ছে। তবে নিজ দেশের জাতীয়তাবাদীদের আক্রমণের মুখে পড়েছেন তিনি। অনলাইনে নানা হয়রানির পর এখন হত্যার হুমকিও পাচ্ছেন তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।noname

৬৪ বছর বয়সী ফ্যাং ফ্যাং ২০১০ সালে চীনের সবচেয়ে মর্যাদাবান সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে উহান শহরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে সেখানকার প্রাত্যহিক ঘটনা বর্ণনা করতে শুরু করেন তিনি। ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে শহর কর্তৃপক্ষ কঠোর ২৩ জানুয়ারি লকডাউন আরোপ করলে তিনি নিজের লেখায় তুলে ধরেন ভয়, ক্ষোভ আর আশার কথা।

একটি লেখায় তিনি শহরের জনশুন্য ইস্ট লেকে শান্ত পানির ঢেউ খেলার বর্ননা দেন। নাগরিকদের পারস্পারিক সহযোগিতা এমনকি নিজের ঘরে সূর্যের আলোয় পাওয়া আনন্দও উঠে আসে তার লেখায়। কয়েকটি লেখায় রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়ও উঠে আসে। হাসপাতাল থেকে রোগী ফিরিয়ে দেওয়া, মাস্ক সংকট আবার স্বজনদের মৃত্যুও স্পর্শ করে তার লেখা। লেখকের প্রকৃত নাম ওয়াং ফ্যাং হলেও ছদ্মনাম ফ্যাং ফ্যাং ব্যবহার করেন তিনি।

উহান ডায়েরি অনলাইনে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেলেও চীনের অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ফ্যাং ফ্যাংকে লক্ষ্যবস্তু বানান। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতিক টানাপোড়েন শুরু হলে লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন তিনি। সংক্রমণ শুরুর প্রথম দিকে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে তথ্যগোপনের অভিযোগ ওঠে। ওই সময়ে চীনের অনলাইন প্লাটফর্ম উইবুতে এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘চমৎকার ফ্যাং ফ্যাং। তুমি পশ্চিমা দুনিয়াকে চীনকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর রসদ যোগাচ্ছো।’ আরেকজন লেখেন, ‘এই ডায়েরি লিখে কতটাকা কামিয়ে নিচ্ছ তুমি?’

অনলাইনে নিয়মিত আক্রমণের মুখে পড়ে ফ্যাং ফ্যাং অনলাইনে লিখতে বাধ্য হন সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন তিনি। চীনের সাপ্তাহিক কাইজিনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, হত্যার হুমকি পেয়েছেন তিনি। এমনকি তার বাড়ির ঠিকানাও অনলাইনে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।