তিন কোটি টনেরও বেশি শস্য মজুতের প্রস্তুতি শুরু করেছে চীন। করোনাভাইরাস মহামারিতে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে তা থেকে নিজেদের রক্ষায় এসব শস্য মজুতের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব শস্যের বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হবে। এই পরিকল্পনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তিনটি সূত্রের বরাতে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের জেরে শুরু হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত জানুয়ারিতে প্রথম ধাপের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ। ওই চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে চীন কাজ করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্সের একটি সূত্র।
চীনের পরিকল্পনা হলো অতিরিক্ত এক কোটি টন সয়াবিন, দুই কোটি টন ভুট্টা এবং দশ লাখ টন তুলা রাষ্ট্রীয় মজুতে যুক্ত করা। শস্যের পাশাপাশি আরও দশ লাখ টন চিনি ও ২০ লাখ টন সয়াবিন তেলও মজুত করতে চায় বেইজিং। রয়টার্সের একটি সূত্র বলেছে, ‘(বেইজিং-এর) মূল বার্তা হলো জনগণের জীবিকার সুরক্ষা। মজুত গড়ে তোলার এখনই ভালো সময় বিশেষ করে যখন পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম।’
করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে শস্যের চাহিদা পড়ে যাওয়ায় দামও কমে গেছে। ফলে এই মুহূর্তে মজুত গড়ে তোলার ভালো সুযোগ পাবে চীন। তবে কখন এসব পণ্য কেনা হবে তা স্পষ্ট নয়। বেইজিংয়ের একটি সূত্রের দাবি, বাজার পর্যালোচনার পর কেনার সময় নির্ধারণ করা হবে।
রয়টার্সের একটি সূত্রের মতে, এটা তিন দিক দিয়ে জয় হবে। প্রথমত প্রয়োজন পড়লে মূল্য বৃদ্ধির সময় এসব শস্য ছেড়ে দেওয়া যাবে। দ্বিতীয়ত এর মাধ্যমে চীন-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণে বেইজিংকে সহায়তা করবে। আর তৃতীয়ত কম মূল্যে পণ্য পাওয়া যাবে।
বিশ্ব জুড়ে বাণিজ্য তদারকি প্রতিষ্ঠান রিফাইনিটিভের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা এবং সয়াবিন আনতে জাহাজ খরচসহ চীনের ব্যয় হবে প্রায় ৬২৫ কোটি মার্কিন ডলার।