যুক্তরাজ্যে সরকারকে আদালতের মুখোমুখি করার হুমকি চিকিৎসকের

ফ্লু মহামারি নিয়ে ২০১৬ সালে করা এক গবেষণার অপ্রকাশিত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি তুলেছেন ব্রিটিশ জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের চিকিৎসক মুসা কোরেশি। তা না করলে যুক্তরাজ্য সরকারকে আদালতের মুখোমুখি করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

noname

২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের ফ্লু মহামারি নিয়ে সরকার ও জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তিনদিনের একটি সিমুলেশন করেছিল। এক্সারসাইজ সিগনাস নামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফ্লু মহামারি মোকাবিলা করতে পারেনি যুক্তরাজ্য। গত সপ্তাহে সরকারের ‘নিউ অ্যান্ড ইমার্জিং রেসপিরেটরি ভাইরাস থ্রেটস অ্যাডভাইজারি গ্রুপ’কে উদ্ধৃত করে অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্সারসাইজ সিগনাসে চারটি সুপারিশ করা হয়েছিল। এর একটি ছিল-রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্য দফতর ও হাসপাতালের সক্ষমতা শক্তিশালী করা।

মুসা কোরেশি ৫৪০০০ডক্টরস.ওআরজি গ্রুপের একজন ক্যাম্পেইনার। এ গ্রুপটির প্রতিনিধিত্ব করছে চিকিৎসা খাতে অনিয়ম সংক্রান্ত আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লেই ডে।  কোরেশি এরইমধ্যে উত্তর চেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর একটি প্রি অ্যাকশন প্রটোকল লেটার পাঠিয়েছেন। বলেছেন, সরকার যদি পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া এক্সারসাইজ সিগনাসের প্রতিবেদনটি প্রকাশ না  করে, তবে সে সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং প্রতিবেদনটি প্রকাশের আবেদন জানিয়ে তার আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে জুডিশিয়াল রিভিউ’র জন্য আবেদন করবেন। আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনা সরকারকে বড় ধরনের লজ্জার মধ্যে ফেলবে। কারণ প্রতিবেদনটির ফলাফল খুব ভয়াবহ ছিল।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস) বিভাগের চিকিৎসক কোরেশি মনে করেন, প্রতিবেদনটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং এতে যে সুপারিশ করা হয়েছিল সেগুলো কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকার যদি সিগনাস এক্সারসাইজকে অনুসরণ করতো এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষামূলক অংশীদার, ইন্ডাস্ট্রি ও জনগণের সঙ্গে সে অনুযায়ী যুক্ত হতো, তবে কোভিড-১৯ থেকে আমার অনেক বীর সহকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে বাঁচানো যেতো।’

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক মুখপাত্রের কাছে গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকেএ ব্যাপারে জানতে চাইলে একে ‘আইনি প্রক্রিয়া’ উল্লেখ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।