যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিক কলিন পাওয়েল। ট্রাম্পের নিজ দলের এ প্রভাবশালী নেতা একাধারে সাবেক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্পকে নয়; বরং প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন-কে সমর্থন দেবেন তিনি। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন যেভাবে মোকাবেলা করছেন ট্রাম্প; তার কঠোর সমালোচনা করেছেন পাওয়েল।
এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের একটি সংবিধান আছে এবং সেটি অনুসরণ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ক্রমশ তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।’ এর জবাবে পাওয়েলকে 'অত্যন্ত অতিমূল্যায়িত' বলে খোঁচা দিয়েছেন ট্রাম্প।
কলিন পাওয়েল বলেন, ট্রাম্প যেভাবে কথা বলছেন তা যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। আমি কোনওভাবেই তাকে সমর্থন করতে পারি না।
উদারপন্থী রিপাবলিকান হিসেবে পরিচিত মিস্টার পাওয়েল ২০১৬ সালের নির্বাচনেও ট্রাম্পকে সমর্থন দেননি।
কলিন পাওয়েল একমাত্র আফ্রিকান আমেরিকান যিনি যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ছিলেন।
বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যেই সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তার এ হুমকি নিয়ে দেশটির সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে যে সমালোচনা শুরু হয়েছে তাতে সর্বশেষ সংযোজন কলিন পাওয়েল।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
টুইটারে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাওয়েলকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘কলিন পাওয়েল কী এট বলেননি যে, ইরাকের কাছে বিধ্বংসী অস্ত্র আছে? অথচ তাদের সেটা ছিল না। কিন্তু আমরা যুদ্ধে জড়িয়েছি।’
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপলিসে পুলিশি হেফাজতে হত্যার শিকার হন আফ্রিকান আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে নিরস্ত্র ফ্লয়েডের গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ডেরেক চাওভিন নামের এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের জেরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন তৈরি হয়েছে।