ভারত-চীন দ্বিতীয় দিনের বৈঠকও ‘অকার্যকর’

দুই দেশের সংঘাতের পর মেজর জেনারেল পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে ভারত ও চীন। কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, টানা দুই দিন বৈঠক চললেও সংকট সমাধানে কার্যকর কোনও অগ্রগতি হয়নি। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের মধ্যে ছয় ঘণ্টা আলোচনার পর পূর্ব লাদাখে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে চীনের পিপল্‌স লিবারেশন আর্মি।লাদাখের পথে রওনা দেওয়া ভারতীয় সামরিক যান

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে উত্তেজনার পর গত ১৫ জুন (সোমবার) উভয় পক্ষ সংঘাতে জড়ায়। এতে ২৩ ভারতীয় সেনা নিহত ও ৭৬ জন আহত হয়।  ওইদিন লাদাখের সুউচ্চ পর্বতমালায় গালওয়ান নদীর পূর্ব পার ধরে টহলে বেরিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিহার রেজিমেন্টের একটি প্যাট্রোল পার্টি। তাদের সঙ্গেই চীনা সেনাদের তীব্র সংঘাত হয়। দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করার অভিযোগ এনেছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করলেও সংকট নিরসনে দুই পক্ষই সেনা পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়। তবে আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, গত দুই দিন আলোচনার পরও পূর্ব লাদাখে ভারতের দবিকৃত ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখায়নি চীনের সেনাবাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ১২টি সুখোই ও ২১টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান চেয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে ভারতীয় বিমানবাহিনী।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির স্বার্থে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার শক্তি প্রদর্শনের পথ নিয়েছে। তবে পূর্ব লাদাখে এই মুহূর্তে বড় ধরনের কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ভারতের জন্য সুবিধাজনক নয় বলেই মনে করেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে বিতর্কিত ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে যেভাবে চীনা বাহিনী অবস্থান নিয়েছে তাতে তাদের সরিয়ে দিতে গেলে স্পেশাল ফোর্স ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে দিল্লির। আর বিকল্প হিসেবে বিমান হামলা চালানো হলে তাতে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আলোচনা ছাড়া ভারতের হাতে অন্য কোনও রাস্তা খোলা নেই।

গত দুই দিনের আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি বলে মনে করছে ভারতীয়রা। তারপরও বৃহস্পতিবার চিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ন বলেছেন, ‘গালওয়ান উপত্যকায় যে গভীর উদ্বেগজনক সংঘাত ঘটেছে, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে উভয় দেশই একমত। শান্তির সুরক্ষা ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণে।’